1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরেন্দ্র মোদিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ তারেক রহমানর, দিল্লির সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই ‘সেরা সমাধান’ হতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেনি মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকার, চ্যালেঞ্জ সামনে নতুন প্রশাসনের ওভাররাইটিং ও ‘বিভ্রান্তিকর’ ব্যালটের অভিযোগে পুনর্গণনা দাবি মামুনুল হক-এর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে: সালাহউদ্দিন আহমদ আলেমরা কেন হারলেন? একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনসিপির মৌলভীবাজারের চার আসনেই বিএনপির জয় ইমাম থেকে সংসদ সদস্য: সিলেট-৫ আসনে আবুল হাসানের জয়

দুদক সংস্কারে বাধা দিয়েছেন উপদেষ্টা পরিষদের সাত সদস্য: ড. ইফতেখারুজ্জামান

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের চিত্র ডেস্ক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংস্কারের বিপক্ষে উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য অবস্থান নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৌশলগত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সাধারণভাবে বলা হচ্ছে আমলাতন্ত্রের একটি অংশ সংস্কার চায় না। কিন্তু বাস্তবে উপদেষ্টা পরিষদের অন্তত সাতজন সদস্য সেই অবস্থানকে সমর্থন দিয়েছেন, যা সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন, ঐকমত্য কমিশন ও হোয়াইট পেপার কমিটি তৈরি এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো—যেসব মৌলিক সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্য রয়েছে, এমনকি কোনো নোট অব ডিসেন্টও নেই, সেগুলো এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক একটি সরকার কাঠামো তৈরি করা। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুদক ও পুলিশ কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে অ্যাডহক বা খণ্ডিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যার ফলে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত দুদক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান হিসেবে তিনি জানান, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে কমিশন মাত্র ৪৭টি নির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত সুপারিশ দেয়। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর আশু করণীয় কিছু সুপারিশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সেগুলোর মধ্যে মাত্র দু-একটি বাস্তবায়িত হয়েছে, যা কোনো কার্যকর পরিবর্তন আনতে পারেনি।

তিনি বলেন, কমিশনের সুপারিশ ছিল দুদককে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি স্বাধীন নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক কমিটি গঠনের। একপর্যায়ে দুদকের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সম্মত হলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ সুপারিশ বাতিল করা হয়। এটিই প্রকৃত অন্তর্ঘাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান অভিযোগ করেন, দুদকের অভ্যন্তরে দুর্নীতি এখনো বিদ্যমান। যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকেই নিয়মিত দায়িত্বে বহাল আছেন। কমিশনের সুপারিশ ছিল—অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনা। কিন্তু এখন পর্যন্ত শুধু দুদক আইন-২০০৪ সংশোধন করে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

দুর্নীতি প্রতিরোধে চারটি মৌলিক উপাদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, পরিচয় নির্বিশেষে জবাবদিহি, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ—এই চারটি একসঙ্গে কার্যকর না হলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পুঁজি হিসেবে অর্থ, পেশিশক্তি ও ধর্মের ব্যবহার দীর্ঘদিনের বাস্তবতা। জুলাই-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জাতির আত্মপরিচয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews