1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

শবে কদর: কুরআন ও সহীহ হাদিসের আলোকে

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬

ধর্ম ডেস্ক

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো করুণাময় আল্লাহর পক্ষ থেকে মুমিন বান্দাদের জন্য এক বিশেষ রাত। এই রাতে স্বল্প সময়ে অসংখ্য সওয়াব অর্জন করা সম্ভব। এটি এমন একটি মহীয়ান রাত, যা শুধু উম্মতে মুহাম্মদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে; অন্য কোনো নবীর উম্মত এই সুযোগ পায়নি।

এ রাতের মর্যাদা এতই বিশাল যে, আল্লাহর আদেশে ফেরেশতারা রহমত, কল্যাণ ও বরকত নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে। শবেকদরের মাহাত্ম্য পবিত্র কোরআনে এতই বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ এক পূর্ণ সূরা (সুরা কদর) নাজিল করেছেন। এ রাতের একটুকু উল্লেখই যথেষ্ট প্রমাণ করে এর শ্রেষ্ঠত্ব।

কোরআনে শবে কদরের উল্লেখ

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বলেন:“আমি আল-কোরআন নাজিল করেছি কদরের রাতে। আপনি কি জানেন, কদরের রাত কী? কদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।”

(সুরা কদর, আয়াত ১-৩)

এই আয়াত থেকেই বোঝা যায়, এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়ে উত্তম। তাই মুমিনদের জন্য শবেকদরের গুরুত্ব অপরিসীম।

হাদিসে শবে কদরের গুরুত্ব

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন:“যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করা হবে।”

(বুখারি, হাদিস ২০১৪)

হাদিস থেকে বোঝা যায়, শবে কদরের রাতে ইবাদত করলে শুধু সওয়াব নয়, অতীতের পাপও মাফ হয়ে যায়।

সুরা কদরের নাজিলের প্রেক্ষাপট

তাফসিরে উল্লেখ আছে, একবার নবী করিম (সা.) সাহাবিদের বনি ইসরাঈলের এক বুজুর্গের দীর্ঘ ইবাদতের কাহিনি শুনিয়েছিলেন। বুজুর্গটি প্রায় ৮৪ বছর বা হাজার মাস পর্যন্ত আল্লাহর পথে জিহাদ করেছিল। সাহাবিরা শুনে বিস্মিত ও আফসোস করেছিলেন, কারণ পূর্ববর্তী উম্মতরা দীর্ঘ আয়ু পেয়েও নেকি অর্জন করেছিল, কিন্তু তাদের সময় সীমিত ছিল। তখন আল্লাহ তাআলা এই সুরা নাজিল করেন এবং বলেন, এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।
(তাফসিরে ইবনে কাসির ৮/৪৪২-৪৪৩)

শবে কদরের তারিখ

শবে কদরের সুনির্দিষ্ট রাত আল্লাহ প্রকাশ করেননি। তবে রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, এটি রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে অনুসন্ধান করতে হবে। আয়েশা (রা.) বলেন: “তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতে শবে কদর অনুসন্ধান করো।”

(বুখারি, হাদিস ২০১৭)

অনেক আলেমের মতে, বিশেষ করে ২৭তম রাত্রি শবে কদরের সম্ভাবনা বেশি। উবাই ইবনে কাব (রা.) বলেন: “যতদূর আমি জানি, রাসুল (সা.) আমাদের ২৭তম রাতে শবে কদর কিয়ামুল্লাইল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।”

(মুসলিম, হাদিস ৭৬২)

শবে কদরের আমল

রমজানের শেষ দশকে এই রাতের জন্য নীচের নফল ও ইবাদত করা হয়:

  1. নফল নামাজ।

  2. মসজিদে ঢুকেই দুই রাকাত দুখুলুল মাসজিদ নামাজ।

  3. দুই রাকাত করে আউওয়াবিন নামাজ।

  4. রাতে তারাবি নামাজ।

  5. শেষ রাতে তাহাজ্জুদ নামাজ।

  6. সম্ভব হলে সালাতুত তাসবিহ।

  7. তাওবার নামাজ।

  8. সালাতুল হাজাত।

  9. কোরআন তিলাওয়াত।

  10. দরুদ শরিফ পাঠ।

  11. তাওবা ও ইস্তিগফার।

  12. জিকির ও আজকার।

  13. পরিবার, বাবা-মা ও মৃতদের জন্য দোয়া।

  14. বেশি বেশি দান-সদকা।

শবেকদরের ইবাদত ও আমল মুমিনদের জন্য অপরিমেয় সওয়াব ও আল্লাহর রহমত অর্জনের সুযোগ। এ রাতের মর্যাদা, ফজিলত এবং আমল একত্রে প্রতিটি মুসলিমের আধ্যাত্মিক জীবনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

 

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews