1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
নরেন্দ্র মোদিকে শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ তারেক রহমানর, দিল্লির সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয় ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনই ‘সেরা সমাধান’ হতে পারে: ডোনাল্ড ট্রাম্প অর্থনীতিতে প্রত্যাশিত গতি আনতে পারেনি মুহাম্মদ ইউনূস-এর সরকার, চ্যালেঞ্জ সামনে নতুন প্রশাসনের ওভাররাইটিং ও ‘বিভ্রান্তিকর’ ব্যালটের অভিযোগে পুনর্গণনা দাবি মামুনুল হক-এর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইবে: সালাহউদ্দিন আহমদ আলেমরা কেন হারলেন? একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ নিরঙ্কুশ জয় বিএনপির দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনসিপির মৌলভীবাজারের চার আসনেই বিএনপির জয় ইমাম থেকে সংসদ সদস্য: সিলেট-৫ আসনে আবুল হাসানের জয়

হাদির বিচার এখনো হয় নাই,ন্যায়বিচারের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের চিত্র ডেস্ক

“হাদির বিচার এখনো হয় নাই” এই বাক্যটি শুধু একটি অভিযোগ নয়, এটি একটি দীর্ঘশ্বাস, একটি সমাজের জমে থাকা ক্ষোভ ও হতাশার প্রতিচ্ছবি। বিচারহীনতার সংস্কৃতি যখন দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, তখন কোনো একটি ঘটনার বিচার না হওয়া কেবল ব্যক্তিগত বেদনায় সীমাবদ্ধ থাকে না; তা রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থাকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হাদির বিচার না হওয়া সেই বাস্তবতারই একটি প্রতীকী উদাহরণ।

একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রে বিচার পাওয়াই নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অপরাধ সংঘটিত হলে তার সুষ্ঠু তদন্ত, দ্রুত বিচার এবং দোষীর উপযুক্ত শাস্তি এই তিনটি স্তম্ভের ওপরই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত দীর্ঘায়িত হয়, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়, কিংবা মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। হাদির বিচার এখনো না হওয়া সেই দীর্ঘসূত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতারই ইঙ্গিত দেয়।

বিচার বিলম্বিত হলে শুধু ভুক্তভোগী পরিবারই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, সমাজও নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। অপরাধীরা যদি দেখে যে শাস্তি অনিশ্চিত বা দূরবর্তী, তবে অপরাধ প্রবণতা বাড়ে। ফলে বিচারহীনতা এক ধরনের উৎসাহে পরিণত হয়, যা সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে দেয়। হাদির বিচার না হওয়া মানে হলো অন্য সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের জন্যও এক ধরনের অশনিসংকেত।

এখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, তদন্ত সংস্থা এবং বিচার বিভাগ—সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হয়। প্রভাবমুক্ত তদন্ত, সাক্ষীদের নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপের বাইরে থেকে বিচার নিশ্চিত না করা গেলে ন্যায়বিচার কাগুজে প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে। হাদির মামলায় যদি এসব ঘাটতি থেকে থাকে, তবে তা নিরসনে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের ভূমিকাও এখানে অনস্বীকার্য। গণমাধ্যম যখন নিয়মিতভাবে বিচারহীনতার প্রশ্ন তোলে, তখন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জবাবদিহির মুখোমুখি হয়। একইভাবে নাগরিক সমাজের ধারাবাহিক চাপ বিচারপ্রক্রিয়াকে গতিশীল করতে সহায়ক হতে পারে। “হাদির বিচার এখনো হয় নাই”—এই দাবি যদি জনপরিসরে বারবার উচ্চারিত হয়, তবে তা নীরবতা ভাঙতে সাহায্য করে।

শেষ পর্যন্ত বিচার শুধু শাস্তি দেওয়ার বিষয় নয়; এটি সমাজে ন্যায়বোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি প্রক্রিয়া। হাদির বিচার নিশ্চিত করা মানে কেবল একটি মামলার নিষ্পত্তি নয়, বরং এই বার্তা দেওয়া যে রাষ্ট্র অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায় না। দ্রুত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচারই পারে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে। নচেৎ “বিচার এখনো হয় নাই”—এই বাক্যটি আরও বহু ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়ে আমাদের সমাজকে তাড়িয়ে বেড়াবে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews