আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনই সংকটের ‘সবচেয়ে ভালো সমাধান’ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউস-এ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প বলেন, গত ৪৭ বছর ধরে ইরান শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছে এবং এ সময়ে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। তবে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের পর কাকে নেতৃত্বে দেখতে চান এ বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি। তার ভাষ্য, ইরানে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো মানুষ রয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এ মন্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদারের ইঙ্গিতও দেন ট্রাম্প। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম আধুনিক বিমানবাহী রণতরী USS Gerald R. Ford শিগগিরই ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।
এদিকে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই গত বুধবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, চুক্তি হলে পরিস্থিতি সহজ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো ইরানকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েল চাইছে, তেহরান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হামাস ও হিজবুল্লাহ-র মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করুক।
ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, অতিরিক্ত দাবির কাছে তারা নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা-র সময় স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করেন। এতে দেশটির অর্থনীতি চাপে পড়ে।
গত বছর ইসরায়েল-ইরান ১২ দিনের সংঘাতের পর নতুন করে চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হলেও এখনো সমঝোতার কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি দেখা যায়নি।
সূত্র: বিবিসি