নিজস্ব প্রতিনিধি-সিলেট
সিলেটের স্থানীয় সরকার রাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উত্থান—দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের রাজনৈতিক পথচলার পর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান—এই দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট পান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৭১।
২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন–এর ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন আরিফুল। কাউন্সিলর থাকাকালে নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৩ সালে সিসিক নির্বাচনে তিনি তৎকালীন মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান–কে পরাজিত করে প্রথমবার মেয়র হন। পরবর্তী নির্বাচনেও জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি প্রার্থী হননি।
ছাত্রজীবনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলা ও মহানগর পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
‘ওয়ান-ইলেভেন’ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাকে কারাবরণ করতে হলেও পরবর্তীতে তিনি আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরে আসেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন চাইলেও শেষ মুহূর্তে দলীয় সিদ্ধান্তে সিলেট-৪ আসনে প্রার্থী হন। দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় নির্বাচনী মাঠে নামেন তিনি এবং বড় ব্যবধানে জয় পান।
১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার বাবা সফিকুল হক চৌধুরী ও মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত।
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে তিনি দলীয় নেতৃত্ব ও নির্বাচনী এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় রাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়াকে তিনি জনগণের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।