লাইফস্টাইল ডেস্ক
ডায়াবেটিস বর্তমানে একটি বহুল প্রচলিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ। জীবনযাত্রার পরিবর্তন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং মানসিক চাপের কারণে এই রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করছে। যদিও ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য নয়, তবে সঠিক নিয়ম মেনে চললে ঔষধ ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
প্রথমত, সুষম খাদ্যাভ্যাস ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায়। অতিরিক্ত চিনি, মিষ্টি, সফট ড্রিংকস, সাদা ভাত, ময়দা ও ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করতে হবে। এর পরিবর্তে লাল চাল, আটা, শাকসবজি, ডাল, লাউ, করলা, শসা, পেঁপে ও আঁশযুক্ত খাবার বেশি খাওয়া উচিত। আঁশযুক্ত খাবার রক্তে শর্করা ধীরে ধীরে বাড়তে সাহায্য করে, ফলে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
দ্বিতীয়ত, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটা, হালকা দৌড়, সাইক্লিং বা যোগব্যায়াম করলে শরীরের ইনসুলিন কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। ব্যায়ামের ফলে রক্তে জমে থাকা অতিরিক্ত গ্লুকোজ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়, যা স্বাভাবিকভাবে সুগার লেভেল কমাতে সাহায্য করে।
তৃতীয়ত, ওজন নিয়ন্ত্রণ করা খুবই জরুরি। অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের অন্যতম প্রধান কারণ। শরীরের ওজন স্বাভাবিক রাখলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমে যায় এবং রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় থাকে। সঠিক খাদ্য ও ব্যায়ামের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ওজন কমানো ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে।
চতুর্থত, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, রাগ ও হতাশা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত নামাজ, ধ্যান, কোরআন তিলাওয়াত বা মন ভালো রাখার কাজগুলো অভ্যাসে পরিণত করা উচিত। মানসিক প্রশান্তি শরীরের হরমোনের ভারসাম্য রক্ষা করে।
পঞ্চমত, পর্যাপ্ত পানি পান করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারী। পর্যাপ্ত পানি শরীর থেকে অতিরিক্ত শর্করা প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হতে সাহায্য করে। তবে চিনিযুক্ত পানীয় বা কৃত্রিম জুস এড়িয়ে চলতে হবে।
ষষ্ঠত, প্রাকৃতিক খাদ্য ও ভেষজ উপাদান কিছু ক্ষেত্রে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। যেমন— করলার রস, মেথি ভেজানো পানি, কালোজিরা, দারুচিনি ইত্যাদি উপাদান রক্তে শর্করা কমাতে ভূমিকা রাখে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ আছে। তবে এগুলো গ্রহণের ক্ষেত্রে পরিমিতি ও সচেতনতা জরুরি।
সপ্তমত, নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে নিজের শরীরের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় এবং খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
ঔষধ ছাড়া ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে ব্যক্তির সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চলার ওপর। স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক প্রশান্তি ও সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। তবে যেকোনো জটিলতা বা প্রয়োজন হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করা উচিত।