1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

ধর্ম ডেস্ক

কুরআন মাজীদ হলো মানবজাতির জন্য আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত ও সর্বশেষ আসমানি গ্রন্থ। এটি শুধু একটি ধর্মগ্রন্থই নয়; বরং জীবনব্যবস্থা, পথনির্দেশিকা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার চাবিকাঠি। কুরআন তিলাওয়াত করা একজন মুমিনের জন্য ইবাদত, সওয়াবের উৎস এবং আত্মিক প্রশান্তির মাধ্যম। কুরআন ও হাদীসে কুরআন তিলাওয়াতের অসংখ্য ফজিলত ও মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।

১. কুরআন তিলাওয়াত ইবাদত এবং সওয়াবের কারণ

কুরআন তিলাওয়াত করা একটি মহান ইবাদত। প্রতিটি অক্ষরের বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা অগণিত সওয়াব দান করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে একটি নেকি পাবে। আর একটি নেকি দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। আমি বলি না ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর; বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর।”
(তিরমিজি)

এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, কুরআন তিলাওয়াতের প্রতিটি মুহূর্তই সওয়াবের ভাণ্ডার।

২. কুরআন হৃদয়ের প্রশান্তি দান করে

মানুষের অন্তরের প্রকৃত শান্তি কেবল আল্লাহর স্মরণেই নিহিত। কুরআন তিলাওয়াত আল্লাহর যিকিরের সর্বোত্তম মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা বলেন—

জেনে রাখো, আল্লাহর স্মরণেই অন্তরসমূহ প্রশান্তি লাভ করে।”
(সূরা রা‘দ: ২৮)

যে ব্যক্তি নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করে, তার হৃদয় দুশ্চিন্তা, ভয় ও অস্থিরতা থেকে মুক্ত থাকে।

৩. কুরআন হিদায়াত ও পথনির্দেশনা প্রদান করে

কুরআন হলো মানবজাতির জন্য পূর্ণাঙ্গ হিদায়াত। আল্লাহ তাআলা বলেন—

এই কুরআন, এতে কোনো সন্দেহ নেই; এটি মুত্তাকীদের জন্য পথনির্দেশ।”
(সূরা আল-বাকারা: ২)

নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করলে মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে পারে এবং সঠিক পথে চলার শক্তি অর্জন করে।

৪. কুরআন কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হবে

কুরআন তিলাওয়াতের অন্যতম বড় ফজিলত হলো— এটি কিয়ামতের দিন পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—

তোমরা কুরআন পাঠ করো, কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশকারী হিসেবে আসবে।”
(সহিহ মুসলিম)

এই সুপারিশ একজন মুমিনের জান্নাত লাভের পথ সহজ করে দেবে।

৫. কুরআন পাঠকারী সর্বোত্তম মানুষ

যারা কুরআন শেখে ও শেখায়, তারা আল্লাহর কাছে সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন-

তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি হলো সে, যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শেখায়।”
(সহিহ বুখারী)

এ থেকে বোঝা যায়, কুরআনের সাথে সম্পর্ক যত গভীর হবে, মানুষের মর্যাদাও তত বৃদ্ধি পাবে।

৬. কুরআন গুনাহ মোচন ও রহমতের কারণ

যখন কুরআন তিলাওয়াত করা হয়, তখন আল্লাহর রহমত অবতীর্ণ হয় এবং গুনাহ মাফ হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন—

যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগসহকারে শোনো এবং নীরব থাকো, যাতে তোমাদের প্রতি রহমত করা হয়।”
(সূরা আল-আ‘রাফ: ২০৪)

কুরআনের মজলিসে ফেরেশতারা উপস্থিত থাকেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত নাজিল হয়।

৭. কুরআন তিলাওয়াত আখিরাতে মর্যাদা বৃদ্ধি করে

কিয়ামতের দিন কুরআন পাঠকারীকে বলা হবে—

তুমি কুরআন পড়তে থাকো এবং উপরে উঠতে থাকো; দুনিয়াতে যেভাবে পড়তে, সেভাবেই পড়ো। তোমার স্থান হবে তুমি যেখানে শেষ করবে।”
(আবু দাউদ, তিরমিজি)

অর্থাৎ, দুনিয়াতে যত বেশি কুরআন তিলাওয়াত করা হবে, আখিরাতে মর্যাদা তত উঁচু হবে।

৮. কুরআন শয়তান থেকে হেফাজত করে

কুরআন তিলাওয়াত মানুষের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে রক্ষা করে। বিশেষ করে সূরা বাকারা সম্পর্কে রাসূল ﷺ বলেছেন—

যে ঘরে সূরা বাকারা পাঠ করা হয়, সে ঘর থেকে শয়তান পালিয়ে যায়।”
(সহিহ মুসলিম)

কুরআন তিলাওয়াত একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত। এটি সওয়াবের ভাণ্ডার, হৃদয়ের প্রশান্তি, গুনাহ মোচনের মাধ্যম এবং আখিরাতের মুক্তির পথ। দুনিয়ায় সম্মান ও আখিরাতে জান্নাত লাভের জন্য কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাই আমাদের উচিত প্রতিদিন নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা, অর্থ বুঝে পড়া এবং জীবনে কুরআনের শিক্ষা বাস্তবায়ন করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কুরআনের প্রকৃত হক আদায় করার তাওফিক দান করুন—আমিন।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews