নিজস্ব প্রতিবেদক/মৌলভীবাজার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর মৌলভীবাজার ৩ আসনের প্রার্থী নাসের রহমানের হলফনামা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া তার সম্পদ, ঋণ ও মামলার তথ্য এখন ভোট পরবর্তী রাজনৈতিক বিশ্লেষণের কেন্দ্রে।
হলফনামা অনুযায়ী, নাসের রহমানের মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৮০ কোটির বেশি। রাজধানীর গুলশানে তিনটি অ্যাপার্টমেন্ট, বিপুল শেয়ার বিনিয়োগ, সঞ্চয়পত্র, নগদ অর্থ ও যানবাহনসহ বিস্তৃত সম্পদের বিবরণ রয়েছে।
তবে তার সর্বশেষ কর বছরে প্রদর্শিত আয় ৭২ লাখ ৬৬ হাজার ৪০১ টাকা। বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত বার্ষিক আয়ের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, যা সম্পদ বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ও উৎস নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
হলফনামায় তার ব্যক্তিগত দায় ৬ কোটি টাকা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি IFIC ব্যাংক থেকে ৮১ কোটি টাকার ঋণ গ্রহণের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে, যা তিনি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বা চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়েছেন।
নির্বাচন পরবর্তী প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এত বড় অঙ্কের ঋণ থাকা একজন জনপ্রতিনিধির ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর্থিক স্বার্থসংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ঋণের বর্তমান অবস্থা ও পরিশোধের কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না থাকায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
বর্তমানে একটি মামলা থাকলেও তা ব্যাংক কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। তবে অতীতে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনসহ দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। উচ্চ আদালতে খালাস বা অব্যাহতি পেলেও, মামলার এই ইতিহাস রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনি অব্যাহতি চূড়ান্ত হলেও, জনমনে প্রশ্ন থেকে যেতে পারে বিশেষত যখন একজন প্রার্থী বিপুল সম্পদ ও ঋণের মালিক।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন ভোটারদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রার্থীদের হলফনামা। সচেতন মহলের দাবি, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক স্বচ্ছতা, সম্পদের উৎস ও ঋণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও বিস্তারিত জবাবদিহি নিশ্চিত করা উচিত।