সম্পাদক: মুহাম্মদ জাকির হোসাইন
পতাকা একটি দেশের সন্মান ও প্রতীক। এটি দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, পরিচয় এবং একাত্মতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। যখন কেউ কোনো দেশের পতাকাকে অপমান করে বা পা দিয়ে মাড়ে, তখন তা শুধু একটি পদক্ষেপ নয়, বরং তা দেশের জনগণের আবেগ, গর্ব এবং সত্তাকে আঘাত করে। ‘পতাকা পা দিয়ে মাড়ানো’ কেবল একটি আইনগত অপরাধ নয়, এটি সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও নিন্দনীয়।
পতাকা শুধুমাত্র কাপড়ের টুকরো নয়। এটি দেশের মানুষের সংগ্রাম, স্বাধীনতা এবং ইতিহাসের প্রতীক। বাংলাদেশের জন্য লাল ও সবুজের পতাকা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। একইভাবে, বিশ্বের অন্যান্য দেশের পতাকাও তাদের সংগ্রাম ও ইতিহাসের স্মারক। পতাকা মানুষের অনুভূতি ও জাতীয় গর্বের সঙ্গে যুক্ত। তাই পতাকার প্রতি সন্মান দেখানো সকলের নৈতিক কর্তব্য।
অনেক দেশে পতাকা অপমান আইন দ্বারা দণ্ডনীয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ও ভারতসহ বেশ কিছু দেশে পতাকা ভাঙা, দাগানো বা পা দিয়ে মাড়ানো আইনত শাস্তিযোগ্য। আইনটি শুধুমাত্র পতাকার সুরক্ষা নিশ্চিত করে না, বরং দেশের নাগরিকদের মধ্যে সম্মান ও ঐক্যের ধারণা জাগিয়ে তোলে। যদি কেউ এটি না মানে, তাহলে তাকে আইনি জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয়।
পতাকা পা দিয়ে মাড়ানো সামাজিকভাবে অত্যন্ত অবমাননাকর কাজ। এটি সাধারণ মানুষের আবেগকে আঘাত করে এবং জাতীয় গর্বকে ক্ষুণ্ণ করে। অনেক সময় এমন ঘটনা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা উস্কানিমূলক কৌশলে ঘটানো হয়। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যক্তির কাজ নয়; তা পুরো জাতির গর্বের সঙ্গে খেলার সমতুল্য। সমাজে এমন অপমান বন্ধ করতে শিক্ষার মাধ্যমে সৎ আচরণের শিক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
পতাকা অপমানের ইতিহাস প্রাচীনকাল থেকে রয়েছে। বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ, আন্দোলন বা রাজনৈতিক বৈরিতার সময় পতাকা অপমানের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু এমন কাজ প্রায়ই বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে, পতাকা অপমান কখনো কোনো দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনে না, বরং তা সংঘাত ও বিবাদকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
বিশ্বের অধিকাংশ দেশে পতাকা সন্মানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। জাতিসংঘের মত আন্তর্জাতিক সংস্থাও পতাকার মর্যাদা রক্ষার পক্ষে। আন্তর্জাতিকভাবে পতাকা অপমান করলে তা কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো দেশের দূতাবাস বা রাষ্ট্রপতি পতাকা অপমান হলে তা আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের ভাবমূর্তির ক্ষতি করে। তাই এটি শুধু স্থানীয় নয়, আন্তর্জাতিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
পতাকা সন্মান প্রদর্শন করা শিক্ষার অংশ হওয়া উচিত। স্কুল, কলেজ ও পরিবারে ছোট থেকেই মানুষকে শেখানো উচিত পতাকা দেশের পরিচয়, ইতিহাস ও গর্বের প্রতীক। শিশুদের মধ্যে patriotism বা দেশপ্রেমের বোধ জাগাতে পতাকার প্রতি সম্মান শেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। শিক্ষিত ও সচেতন মানুষই পতাকার মর্যাদা রক্ষা করতে পারে।
প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব হলো দেশের পতাকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা। এটি শুধুমাত্র আইন মানার জন্য নয়, দেশের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিকভাবে সচেতন মানুষ অন্যদেরও শিক্ষা দিতে পারে পতাকা অপমান না করার। এতে দেশপ্রেম এবং সামাজিক ঐক্য দৃঢ় হয়।
পতাকা পা দিয়ে মাড়ানো কেবল একটি অবমাননাকর কাজ নয়, এটি জাতীয় গর্ব ও ইতিহাসের প্রতি অবজ্ঞা প্রকাশ। এটি আইনগত, সামাজিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নিন্দনীয়। প্রতিটি নাগরিকের উচিত পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা এবং অন্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন করা। পতাকা সম্মান করা মানে দেশের প্রতি ভালোবাসা, ঐক্য এবং দায়িত্বের প্রকাশ। একে রক্ষা করা সকলের নৈতিক ও সামাজিক কর্তব্য।