1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪০ পূর্বাহ্ন

প্রশাসন কি থাকবে পেশাদার, নাকি ফিরবে দলীয় প্রভাব?

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

দেশের চিত্র ডেস্ক

দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন নয়। অতীতে বিএনপি শাসনামলে প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল ও রাজনৈতিক বিবেচনায় পদায়নের অভিযোগ উঠেছিল। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ আমলেও একই ধরনের সমালোচনা সামনে আসে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা আবার যেন সেই চক্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ক্ষমতায় থাকাকালে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় ঘনিষ্ঠদের পদায়ন, পদোন্নতি ও বদলির অভিযোগ বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করে। বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বিরোধী দলের পক্ষ থেকে।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে একই ধরনের অভিযোগ উত্থাপিত হয়। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে ব্যাপক রদবদল, পদোন্নতিতে রাজনৈতিক বিবেচনা এবং “বিশ্বস্ততা”কে অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে সমালোচনা হয় দেশজুড়ে। সাবেক আমলাদের একাংশ প্রকাশ্যে ও অনেকে নীরবে মত দেন যে, প্রশাসনকে দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সাজালে দীর্ঘমেয়াদে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের শুরুর সময় থেকেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ সতর্কবার্তা দিচ্ছেন ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। তবে প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার পরিবর্তনের পর কিছু নীতিগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন স্বাভাবিক হলেও তা যেন প্রতিশোধমূলক বা দলীয়করণে পরিণত না হয়।

একজন সাবেক সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রশাসন যদি বারবার রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে সাজানো হয়, তাহলে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হয়।”

সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, প্রশাসনকে রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ থেকে জনগণের সেবা দেওয়ার কথা। নির্বাচন পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন সব ক্ষেত্রেই একটি নিরপেক্ষ ও পেশাদার প্রশাসন অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দলীয় প্রভাবের কারণে যোগ্যতার বদলে আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দিলে দক্ষ কর্মকর্তারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। এতে নীতি বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয় এবং দুর্নীতির ঝুঁকিও বাড়ে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। যদি বর্তমান সরকার সত্যিকার অর্থে প্রশাসনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করতে চায়, তাহলে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক পদোন্নতি, বদলি ও নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

সুশাসনকেন্দ্রিক সংগঠনগুলোর দাবি, একটি স্বাধীন ও কার্যকর পাবলিক সার্ভিস কমিশন, স্পষ্ট নীতিমালা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে দলীয়করণের প্রবণতা কমানো সম্ভব।

সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা সরকার পরিবর্তন মানেই প্রশাসনে ব্যাপক “শুদ্ধি অভিযান” নয়, বরং নীতিগত সংস্কার। ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে প্রশাসনিক কাঠামোকে রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত না করে, দীর্ঘমেয়াদে একটি পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি।

রাজনৈতিক অস্থিরতার ইতিহাস পেরিয়ে দেশ যখন স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের পথে এগোতে চায়, তখন প্রশাসনে দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি না হওয়াই হবে গণতন্ত্রের জন্য ইতিবাচক বার্তা এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews