বড়লেখা প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় রেলওয়ের বিপুল পরিমাণ সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের এই ভূমিতে মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বড়লেখা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি এবাদুর রহমান এবাদ। ভুক্তভোগী পক্ষের দাবি, বড়লেখা রেলস্টেশনের পাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি জমি দীর্ঘদিন ধরে লিজের আওতায় তাদের দখলে থাকলেও তা জবরদখলের চেষ্টা চলছে।
লিখিত অভিযোগে করিমা পারভিন নামের এক ভুক্তভোগী জানান, তার বাবা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি লিজ নিয়ে জমিটি ব্যবহার করতেন। কয়েক দশক ধরে তাদের পরিবার ওই জমি ভোগ করে আসছে। বাবার মৃত্যুর পর তিনিই জমির দেখভাল করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের চেষ্টা করছেন। বিষয়টি আদালতে গড়ালে আদালত জমির ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেন, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সরকারি উদ্যোগে জমিটি ভরাট করে সেখানে একটি সবজি বাজার স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং তৎকালীন পৌর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে জমিটি উন্নয়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে আবারও জমি দখলের চেষ্টা শুরু হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীর দাবি, জমিতে মাটি ফেলা এবং দোকানঘর নির্মাণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে বাধা দিতে গেলে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার শিকার হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয়।
এদিকে, একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এর আগেও আরেকটি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ লাগানো হয়েছিল, যা নিয়ে পৃথক মামলাও হয়েছে।
তবে অভিযুক্ত এবাদুর রহমান এবাদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জমিটি তাদের পারিবারিক সম্পত্তি এবং এ বিষয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে বর্তমানে কোনো ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি জমি রক্ষা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।