নিজস্ব প্রতিবেদক
সময় থেমে থাকে না। সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, আশা ও বেদনার স্মৃতি নিয়ে আমাদের কাছ থেকে বিদায় নিল ২০২৫ সাল। ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলো আরেকটি ঘটনাবহুল বছর, আর নতুন প্রত্যাশা ও স্বপ্ন নিয়ে শুরু হলো ২০২৬। বছরের শেষ মুহূর্তে আনন্দ-উল্লাসের মাঝেও জাতি স্মরণ করছে সেইসব মানুষকে, যাদের রক্তের বিনিময়ে পরিবর্তনের পথ তৈরি হয়েছে।
২০২৫ সাল বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে জুলাই বিপ্লবের জন্য। অন্যায়, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এই গণআন্দোলনে অসংখ্য তরুণ বুক পেতে দিয়েছিল। জুলাই বিপ্লবীদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই বিপ্লবের এক উজ্জ্বল নাম শহীদ শরীফ উসমান হাদি।
ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে দাঁড়িয়ে তিনি জীবন উৎসর্গ করেন। তাঁর শাহাদত শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির অপূরণীয় ক্ষতি। শরীফ উসমান হাদির আত্মত্যাগ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তোলে এবং মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে।
২০২৫ সালে দেশ নানা সংকট ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। একদিকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মানুষের জীবনকে কঠিন করেছে, অন্যদিকে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও অবকাঠামো উন্নয়নে অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। এসবের মাঝেও জুলাই বিপ্লব দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
নতুন বছর ২০২৬-কে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা তাই আরও গভীর। শহীদ শরীফ উসমান হাদি ও অন্যান্য জুলাই বিপ্লবীদের রক্ত যেন বৃথা না যায়—এটাই এখন জাতির অঙ্গীকার। মানুষ চায় একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ।
বিদায় ২০২৫ আমাদের শিখিয়ে গেল আত্মত্যাগের মূল্য। স্বাগতম ২০২৬—শহীদদের আদর্শ বুকে ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বছর হোক এটি।