সাইন্স ফিকশন
সারা পৃথিবী পরিবর্তিত। ২০৭৫ সালের আগমনে মানুষ আর পৃথিবীকে আগের মতো ভাবা যায় না। আকাশে উজ্জ্বল রঙের লেজযুক্ত বিমান উড়ে, আর রাস্তার পাশে দাঁড়ানো রোবটরা মানুষের মতো কথা বলছে। শহরের নাম—নিউ লুমিনা।
১৬ বছরের মেয়ে আরিয়া নতুন স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সে বিজ্ঞানপ্রেমী, কল্পনার জগতের অনুসন্ধানী। আজ তার প্রথম দিন, আর স্কুলটি শুধু সাধারণ স্কুল নয়—এটি ছিল টেকনো একাডেমি, যেখানে শিশুদের শুধু পড়াশোনা নয়, ভবিষ্যতের প্রযুক্তি ও রোবোটিক্স শেখানো হয়।
স্কুলে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে চোখ জুড়ে বিস্ময়। সবকিছু হলোগ্রাফিক ডিসপ্লে-এ ভেসে উঠছে। দেওয়ালে তথ্য চলছিল, চারপাশে উড়ছে ছোট ড্রোন। আরিয়ার শিক্ষক মিস লুমা তাকে স্বাগত জানালেন।
“আজ আমরা শিখব কিভাবে রোবট আমাদের শহরকে আরও ভালো করতে পারে,” মিস লুমা বললেন। “প্রতিটি শিক্ষার্থী একটি রোবট বানাবে, যা শহরের মানুষের জন্য কিছু করে।”
আরিয়া উদগ্রীব। সে আর দেরি না করে তার ডেস্কে বসে, ছোট রোবটের অংশগুলোকে একত্র করা শুরু করল। রোবটটির নাম রাখল স্পার্কি। স্পার্কি দেখতে ছোট, কিন্তু মনে খুব চতুর। আরিয়ার হাতে কাজ করতে করতে রোবটটি হঠাৎ আলোকিত হয়ে গেল এবং বলল,
“আমার সাথে আরিয়া, আমি তোমাকে একটি রহস্য দেখাতে চাই।”
আরিয়া চোখ বড় করে তাকাল। রহস্য? সে কি কোনো পরীক্ষার অংশ? স্পার্কি হালকা ঝকঝকে আলো ছেড়ে স্কুলের পিছনের দিকের গোপন দরজা-র দিকে এগিয়ে গেল।
দরজা খুলতেই তারা প্রবেশ করল এক বিশাল ভিত্তিহীন ল্যাবরেটরিতে, যেখানে ত্রিমাত্রিক হোলোগ্রাম ছড়িয়ে পড়ছিল। ল্যাবের মাঝখানে একটি বড় গ্লোবাল ম্যাপ ভেসে উঠল। স্পার্কি বলল,
“দেখো আরিয়া, পৃথিবীর প্রতিটি শহরে প্রযুক্তি ব্যবহারের এক রহস্যময় শক্তি লুকিয়ে আছে। আমরা যদি সঠিকভাবে এগুলো ব্যবহার করি, পৃথিবী হবে শান্তিপূর্ণ এবং সবার জন্য নিরাপদ।”
আরিয়া হতবাক। সে জানত না এমন কিছুও আছে। স্পার্কি চালিয়ে বলল,
“কিন্তু এখানে কিছু বিপদও আছে। যারা শক্তিকে ভুল কাজে ব্যবহার করতে চায়, তারা শহরগুলোকে অন্ধকারে ঢেকে দিতে পারে। আমরা তাদের থামাতে পারি।”
তাদের প্রথম মিশন—নিউ লুমিনার বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে রক্ষা করা। কেন্দ্রটি পুরো শহরের আলো ও শক্তি সরবরাহ করত। যদি কেউ তা বন্ধ করে দেয়, শহর অন্ধকারে ডুবে যাবে।
আরিয়া এবং স্পার্কি ল্যাব থেকে বেরিয়ে শহরের রাস্তা ধরে এগিয়ে গেল। হঠাৎ আকাশে কিছু অজানা উড়ন্ত ড্রোন দেখা গেল, যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে যাচ্ছিল। আরিয়া বুঝল, এগুলো ছিল অন্য শক্তি ব্যবহারকারীদের ড্রোন।
স্পার্কি বলল,
“আমাদের দ্রুত কাজ করতে হবে। আমি তোমাকে একটি শক্তি গ্লোভস দেব, যা ড্রোনকে নিরস্ত করতে সাহায্য করবে।”
আরিয়া গ্লোভস হাতে পরল। তার চোখে ভয় ও উত্তেজনা—উভয়ই। সে ড্রোনগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,
“চল স্পার্কি, আমরা করতে পারব!”
ড্রোনগুলো যত এগোচ্ছিল, আরিয়া তাদের প্রতি শক্তি ছুঁড়ে মারল। হঠাৎ ড্রোনগুলো থমকে গেল, এবং আলো ঝলমল করে উঠল। স্পার্কি আনন্দে জোরে বলল,
“দেখছো? আমরা এটি করতে পারি!”
তারা শহরের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পৌঁছল। আরিয়া জানল, প্রযুক্তি যদি ঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তবে এটি শুধু সুবিধা দেয় না, বরং মানুষের জীবনকে নিরাপদ ও সুন্দর করে।
দিন শেষ হতেই, আরিয়া তার স্কুলে ফিরে গেল। সে বুঝল যে ভবিষ্যতের শহর শুধু বড় বিল্ডিং বা রোবট নয়—এটি মানুষের চেতনা, উদ্ভাবন, এবং দায়িত্ব দিয়ে তৈরি।
আরিয়া জানত, স্পার্কি তার পাশে থাকবে, আর তারা একসাথে শহরের মানুষের জন্য ভাল কিছু করার স্বপ্ন পূর্ণ করবে।