1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন

রয়টার্সের চোখে তারেক রহমান: বাংলাদেশের ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৬

দেশের চিত্র প্রতিবেদন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স বাংলাদেশের রাজনীতির বর্তমান বাস্তবতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশের ‘পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তারেক রহমানের দেশে ফেরা বিএনপির জন্য নতুন উদ্দীপনার উৎস হয়ে উঠেছে। ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় প্রবাসে থেকেও দলীয় নেতৃত্ব ও নীতিনির্ধারণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছেন।


২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমন ছিল আবেগঘন ও প্রতীকী। বিমানবন্দর থেকে অভ্যর্থনা কেন্দ্র পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে কয়েক লাখ নেতাকর্মী ও সমর্থক দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফুল হাতে তাঁকে স্বাগত জানান। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও জনস্রোত প্রমাণ করে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পরও তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে কতটা প্রভাবশালী।


রয়টার্স বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, হালকা ধূসর চেক ডিজাইনের ব্লেজার ও সাদা শার্ট পরিহিত তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে জুতা খুলে খালি পায়ে বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন এবং একমুঠো মাটি হাতে তুলে নেন। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই মুহূর্তটি ছিল তাঁর মাতৃভূমির সঙ্গে আবেগী পুনর্মিলনের এক শক্তিশালী প্রতীক।


অভ্যর্থনা কেন্দ্রে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ভাষণে তিনি “প্রিয় বাংলাদেশ” সম্বোধনের মাধ্যমে বক্তব্য শুরু করেন এবং সব ধর্ম ও শ্রেণির মানুষের ঐক্য, নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিশোধের ভাষা নয়, বরং সহাবস্থান ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের বার্তা গুরুত্ব পায়—যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে।

রয়টার্স জানায়, ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র। তিনি ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন এবং ২০১৮ সাল থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাঁর নেতৃত্বে দল সাংগঠনিকভাবে টিকে থেকেছে এবং বিরোধী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধরে রেখেছে।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী সময় পার করছে। এই নির্বাচনকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


রয়টার্স আরও উল্লেখ করে, অতীতে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর রায় শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর বাতিল হওয়ায় দেশে ফেরার আইনি বাধা দূর হয়। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পুনরাগমন এখন বাস্তব ও কার্যকর।


আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণেও তারেক রহমানের গুরুত্ব বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের জরিপ অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপি সর্বাধিক সংসদীয় আসন পেতে পারে। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণ নেতৃত্বের প্রতিনিধিরাও আশা প্রকাশ করেছেন, তারেক রহমান গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গঠনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবেন।


সব মিলিয়ে রয়টার্সের বিশ্লেষণে তারেক রহমান আর শুধু একজন বিরোধী দলের নেতা নন—তিনি বাংলাদেশের ক্ষমতার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করছেন। “বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী”—এই অভিধা এখন কেবল রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচিত একটি সম্ভাব্য বাস্তবতা।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews