অনলাইন ডেস্ক
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের শিক্ষা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের খবর। দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মিষ্টি বিতরণ।
নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করেন। এতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান ড. মিলন। এর আগে ২০০১ সালে তিনি শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি বিজয়ী হন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালেও একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৭ সালের ২৬ মার্চ চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ড. মিলন। তার বাবা ওবায়দুল হক ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা এবং মা মাহমুদা হক গৃহিণী। তার স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি।
তিনি শের-ই বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজ (সাবেক গভর্নমেন্ট ইন্টারমিডিয়েট টেকনিক্যাল কলেজ) থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়নে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮২ সালে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে New York Institute of Technology থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে Brooklyn College এবং Borough of Manhattan Community College-এ সহকারী প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি ঔষধ শিল্পে রসায়নবিদ হিসেবেও কাজ করেছেন।
২০১৮ সালে International Islamic University Malaysia থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের ভূমিকা।
ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হিসেবে যুক্ত হন। ১৯৯৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তাকে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক করেন।
১৯৯৬ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মহীউদ্দীন খান আলমগীর-কে পরাজিত করেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তাকে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে নকলবিরোধী কার্যক্রমের জন্য তিনি ব্যাপক আলোচনায় আসেন।
পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বিভিন্ন মামলায় জামিন পাওয়ার পর তিনি বিদেশে অবস্থান করেন। ২০১৮ সালের নভেম্বরে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হন এবং একাধিক মামলায় অভিযুক্ত হন। পরবর্তীতে অনেক মামলায় খালাস ও অব্যাহতি পান; কিছু মামলা এখনও বিচারাধীন রয়েছে। এক পর্যায়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিলেও পরে তা ত্যাগ করে দেশে ফিরে আসেন।
স্থানীয়দের দাবি, তার পূর্ববর্তী দায়িত্বকালে কচুয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও সংস্কার, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়িত হয়।
কচুয়া উত্তর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ইউসুফ মিয়াজী বলেন, তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করায় এই অঞ্চলের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে তারা আশাবাদী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা-সংক্রান্ত দায়িত্ব পাওয়ার খবরে কচুয়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।