নিজস্ব প্রতিবেদক
সংবাদমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত। সমাজের সত্য তুলে ধরা, ক্ষমতাবানদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো সংবাদপত্র। সেই সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা মানেই কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, বরং তা পুরো সমাজব্যবস্থার ওপর হুমকি। প্রথম আলো অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা এ সত্যটিই আবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়।
প্রথম আলো দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ও পাঠকপ্রিয় দৈনিক। দীর্ঘদিন ধরে এই পত্রিকা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয় প্রকাশ করে আসছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে তাদের প্রতিবেদন কারও কারও কাছে অস্বস্তিকর মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মতবিরোধের জবাব কখনোই সহিংসতা হতে পারে না। যুক্তি, প্রতিবাদ কিংবা আইনি পথই সভ্য সমাজের গ্রহণযোগ্য মাধ্যম।
প্রথম আলো অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা একটি ভয়ংকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। এতে শুধু সাংবাদিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি, একই সঙ্গে সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের স্বাধীনতাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এমন হামলা সাংবাদিকদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে, যার ফলে সত্য প্রকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই ভীতি যদি সমাজে স্থায়ী রূপ নেয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষই, কারণ তারা সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য থেকে বঞ্চিত হবে।
সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলা আসলে গণতন্ত্রের মূল চেতনার পরিপন্থী। গণতন্ত্র টিকে থাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতার ওপর। কেউ কোনো সংবাদ বা মতামতের সঙ্গে একমত না হলে তার প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে, সমালোচনা করা যেতে পারে, এমনকি আইনি প্রতিকারও নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু অফিসে হামলা, ভাঙচুর কিংবা ভয় দেখানো সভ্যতা ও আইনের শাসনের সম্পূর্ণ বিপরীত।
এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, নাগরিক সমাজ ও সচেতন মানুষের সম্মিলিত প্রতিবাদ জরুরি। হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রের নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব।
প্রথম আলো অফিসে হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি আমাদের সমাজে সহনশীলতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর সংকেত বহন করে। সংবাদমাধ্যমকে ভয় দেখিয়ে সত্য থামানো যায় না। বরং সত্য আরও জোরালোভাবে সামনে আসে। তাই গণতন্ত্র ও স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বার্থে এ ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।