আন্তর্জাতিক ডেস্ক
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এর কার্যক্রমে ইরানের সরাসরি তদারকি বেড়েছে বলে একাধিক আঞ্চলিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংগঠনটির সামরিক ও কৌশলগত পুনর্গঠনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) এর কয়েকজন কর্মকর্তা সম্প্রতি লেবাননে গিয়ে হিজবুল্লাহ সদস্যদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেছেন বলে আরব সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে উল্লেখ করা হয়। এসব বৈঠকে সম্ভাব্য ইসরাইলি বা মার্কিন হামলার প্রেক্ষাপটে সামরিক প্রস্তুতি জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।
The Jerusalem Post–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এতদিন ইরান পেছন থেকে সমর্থন দিলেও এখন সংগঠনটির কার্যক্রমে সরাসরি তদারকি করছে আইআরজিসি। হিজবুল্লাহ ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে Al Arabiya জানায়, ইসরাইলের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবাননের বেকা উপত্যকায় আইআরজিসি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। সম্প্রতি ওই অঞ্চলের একটি স্থানে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে কয়েকজন হতাহত হন। ইসরাইলি পক্ষ দাবি করেছে, হামাস ও হিজবুল্লাহ সম্পৃক্ত স্থাপনায় লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর বক্তব্য ঘিরে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। মার্কিন সামরিক উপস্থিতিও অঞ্চলে বাড়ানো হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
ইসরাইলি সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম Kan জানিয়েছে, সম্ভাব্য ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হিজবুল্লাহর রকেট ইউনিটের তৎপরতা বেড়েছে বলে তাদের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ধারণা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে বড় ধরনের হামলা হলে হিজবুল্লাহ, আইআরজিসি এবং ইরান সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো সমন্বিত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই ইসরাইল সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তবে এসব তথ্যের অনেকটাই সংশ্লিষ্ট পক্ষের ঘনিষ্ঠ সূত্রনির্ভর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে সব দাবির সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা, সীমান্ত উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক এসব প্রতিবেদন নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকদের অভিমত।