1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
৫ আগস্ট-পরবর্তী ৯১.৭% সহিংসতার সঙ্গে বিএনপি সম্পৃক্ত-টিআইবি এপস্টেইন ফাইল ও শেখ হাসিনার নাম: সত্য, গুজব ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বাংলাদেশ কার কাছে নিরাপদ বড়লেখা সীমান্তে মাদককারবারিদের তাণ্ডব, আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলা মৌলভীবাজার–রাজনগরকে আধুনিক নগরী গড়ার অঙ্গীকার: ১৫ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা মাওলানা আহমদ বিলালের মৌলভীবাজারে চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল অ্যান্টিভেনম, ঝুঁকিতে সাপদংশনের রোগীরা ভিয়েতনাম যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের নতুন নাম: ‘এসআইএফ’ পবিত্র শবেবরাত আজ ,সহীহ হাদিসের আলোকে এ রাতের গুরুত্ব ও করণীয় নির্বাচনী ব্যস্ততায় ঢিল, মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য তুঙ্গে

সৌদি আরবে ৩ দিনে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড, সমালোচনায় মানবাধিকার সংস্থাগুলো

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৬ আগস্ট, ২০২৫

অনলাইন ডেস্ক

সৌদি আরবে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ১৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৯ জনে, যা গত বছরের রেকর্ডের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই গতি বজায় থাকলে ২০২৪ সালের ৩৩৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত শনিবার ও রোববার ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের মধ্যে ১৩ জন হাশিশ পাচারকারী এবং একজন কোকেন পাচারকারী। এরপর সোমবার আরও দুই সৌদি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়, যাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছিল।

২০২২ সালের স্মৃতি, আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

এই দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়টি ২০২২ সালের ১২ মার্চের ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, যেদিন একদিনেই ৮১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। তখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে দেশটি।

মাদক সংক্রান্ত অপরাধেই অধিকাংশ শাস্তি

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, বিশেষত মাদক সংক্রান্ত অপরাধে। এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের এ পর্যন্ত হওয়া ২৩৯টি মৃত্যুদণ্ডের মধ্যে ১৬১ জনই মাদক অপরাধে অভিযুক্ত, যাদের মধ্যে ১৩৬ জন বিদেশি নাগরিক

মানবাধিকার সংগঠন রিপ্রিভ-এর কর্মকর্তা জিড বাসিউনি বলেন,“বিশ্ব যখন হাশিশসহ কিছু মাদক সেবনের অপরাধমুক্তকরণের দিকে এগোচ্ছে, সৌদি আরব তখন উল্টো পথে হাঁটছে। বিশেষ করে বিদেশিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

মাদকবিরোধী যুদ্ধ’ এবং মৃত্যুদণ্ডের উল্কগত হার

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া সৌদি সরকারের ‘মাদকবিরোধী যুদ্ধ’-এর ধারাবাহিকতায় মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়ছে। সে সময় গ্রেপ্তার হওয়া বহু ব্যক্তির মামলার বিচার এখন শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শাস্তি কার্যকর করা হচ্ছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালের পর কয়েক বছর মাদক সংক্রান্ত অপরাধে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত ছিল, যা ২০২২ সালের শেষ দিকে আবার কার্যকর শুরু হয়। এরপর থেকে এর হার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান-এর নেতৃত্বে দেশটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে এগোলেও, একইসঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের সংখ্যা বাড়ানো দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতি, বিনোদন খাতের উন্মুক্তকরণ, ও ‘ভিশন ২০৩০’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে আধুনিক রাষ্ট্রের রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চললেও, মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে— এসব সংস্কারের সঙ্গে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের বেড়ে যাওয়া সাংঘর্ষিক।

সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি,“মৃত্যুদণ্ড শুধুমাত্র পূর্ণাঙ্গ আইনি প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর করা হয় এবং এটি সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য অপরিহার্য।”

তবে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন, এ ধরনের শাস্তি ভিশন ২০৩০-এ ঘোষিত মানবিক রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতিকে ক্ষুণ্ণ করছে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews