স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র শরিফ উসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার উত্তাল হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর। হত্যার প্রতিবাদ, খুনিদের গ্রেপ্তার এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে শহরে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করে ছাত্র-জনতা। এ সময় হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়সহ দুটি প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, শুক্রবার জুমার নামাজের পর হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণে ব্লকেড কর্মসূচি ও কুশপুত্তলিকা দাহের ঘোষণা দেয় ছাত্র-জনতা। নামাজ শেষে সেখানে জড়ো হতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। একপর্যায়ে তারা কোর্ট মসজিদের সামনে শহরের প্রধান সড়ক অবরোধ করে দেয়। পরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।
কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে কোর্ট মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চিড়িয়াকান্দি এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্লগার সুশান্ত দাসের মালিকানাধীন ‘দৈনিক আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় কার্যালয় থেকে বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত অস্ত্র পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য, পত্রিকাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
পত্রিকা অফিসে হামলার পর বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে তারা ব্যাপক ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
এরপর বিক্ষোভকারীরা হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আবারও প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করে। তারা হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আন্দোলনকারী নেতৃবৃন্দ ও জুলাই যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এ সময় হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন। পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি। পুলিশের আশ্বাসের পর বিক্ষোভকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়।
কর্মসূচিতে নেতৃত্বদানকারী ছাত্র নেতা আশরাফুল ইসলাম সুজন বলেন, “হাদি ভাইকে অত্যন্ত ন্যাক্কারজনকভাবে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সাত দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিচ্ছি। এর মধ্যে খুনিদের গ্রেপ্তার না করা হলে সারা দেশ অচল করে দেওয়া হবে।”
হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে হবিগঞ্জে সৃষ্ট এই সহিংস পরিস্থিতি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।