দেশের চিত্র প্রতিবেদক
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের আবেদনের পর নরসিংদী থেকে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ফ্যাক্টচেকার কদরুদ্দিন শিশির এক ফেসবুক পোস্টে জানান, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে সংঘটিত বিক্ষোভে সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। সে সময় সেখান থেকে আটক হয়ে থানায় নেওয়া কয়েকজনকে জোরপূর্বক মুক্ত করতে তিনি নেতৃত্ব দেন। একইভাবে শাহবাগে নারী হয়রানির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে নিতে যশোর থেকে ঢাকায় এসে তিনি নেতৃত্ব দেন বলেও উল্লেখ করা হয়।
বিক্রমপুরী তার ওয়াজ, অনলাইন বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্র ও উসকানিমূলক ভাষা ব্যবহারের জন্য পরিচিত। সম্প্রতি এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের বর্তমান খতিব মাওলানা আব্দুল মালেককে ‘মুনাফেক’ ও ‘তাগুতের কুকুর’ বলে আখ্যা দেন।
এ ছাড়া তিনি ‘এন্টি শাতিম মুভমেন্ট’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করেন, যেখানে গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া এক পোস্টে ‘শাতিমে রাসুল’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করা হলে তাকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়।
গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলিমদের তিনি নিয়মিতভাবে ‘কাফির’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে পোস্ট ও বক্তব্য দিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে নাস্তিকদের হত্যার জন্য উসকানি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যদিও তিনি আইএসকে খারেজি বলে দাবি করেন, তবে আল-কায়েদা ও তালেবানকে ‘হকপন্থি’ দল হিসেবে প্রচার চালান।
এর আগে ২০২১ সালে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এছাড়া তিনি কারাবন্দি জঙ্গিদের মুক্তির দাবিতে সক্রিয় ‘বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলন’-এর একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক। ৫ আগস্টের পর তিনি অনুসারীদের নিয়ে কাশিমপুর কারাগারে গিয়ে বন্দি জঙ্গিদের মুক্তির দাবিতে জড়ো হন এবং কারা কর্মকর্তাদের জেরা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় ‘তৌহিদী জনতা’র স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হিসেবে যেগুলো প্রচার করা হয়েছিল, সেগুলোর পেছনে উগ্রপন্থি কার্যক্রমে জড়িত ব্যক্তিদের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে—এমন তথ্যও উঠে এসেছে।