নিজস্ব প্রতিবেদক
আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বাংলাদেশের একজন উগ্রপন্থি বক্তা ও অনলাইন প্রচারক হিসেবে পরিচিত। তিনি মূলত তার ওয়াজ, অনলাইন বয়ান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে আলোচনায় আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন গবেষক-ফ্যাক্টচেকারদের মতে, তার বক্তব্যে ধর্মের নামে সহিংসতা, তাকফির (অন্যকে কাফির ঘোষণা) এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা প্রকাশ পায়।
বিক্রমপুরী বিভিন্ন সময় ধর্মীয় উগ্রবাদ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী মুসলিমদের ‘কাফির’ আখ্যা দেওয়া, নাস্তিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার উসকানি এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের হেয় করার মতো বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তিনি দেশের শীর্ষ আলেমদের বিরুদ্ধেও কটূক্তিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন বলে বিভিন্ন সময় বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তিনি ‘এন্টি শাতিম মুভমেন্ট’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন বলে জানা যায়, যেখানে একাধিক পোস্টে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কাউকে শনাক্ত করা গেলে তাকে হত্যার আহ্বান জানানোর মতো বক্তব্য উঠে আসে। এসব কারণে তার অনলাইন কার্যক্রমকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নজরদারিতে রাখে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে ২০২১ সালে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। তিনি কারাবন্দি জঙ্গিদের মুক্তির দাবিতে গঠিত ‘বৈষম্যহীন কারামুক্তি আন্দোলন’-এর একজন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচিত।
বিভিন্ন ঘটনায় দেখা গেছে, তিনি তথাকথিত ধর্মীয় আন্দোলনের ব্যানারে মানুষ জড়ো করে থানা বা সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং জনমনে উত্তেজনা তৈরিতে ভূমিকা রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডকে অনেক বিশ্লেষক পরিকল্পিত উগ্রপন্থি সমন্বয়ের অংশ হিসেবে দেখছেন।
বিক্রমপুরী একজন বিতর্কিত ও উগ্রপন্থি চিন্তাধারার প্রচারক, যিনি ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছেন এবং একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি ও অভিযানের মুখে পড়েছেন।