1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীদের স্ট্রেস, চাপ ও উদ্বেগ মোকাবিলার উপায়

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

শিক্ষা ডেস্ক


আজকের শিক্ষার্থীদের জীবন অনেক বেশি চাপ এবং স্ট্রেসের মধ্যে ভরা। ক্লাসে ভালো নম্বর, পরীক্ষা, প্রজেক্ট, অতিরিক্ত অ্যাক্টিভিটি এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার—all কিছু একসাথে সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা অনেক সময় মানসিক চাপ ও উদ্বেগে ভুগে। স্ট্রেস এবং চাপ শুধু মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষার্থীদের জন্য স্ট্রেস, চাপ ও উদ্বেগ মোকাবিলার উপায় জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


শিক্ষার্থীদের স্ট্রেস বা চাপের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে: পরীক্ষার চাপ, হোমওয়ার্ক, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রতিযোগিতা, সহপাঠীদের সঙ্গে তুলনা, পরিবারের প্রত্যাশা এবং সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যাক্টিভিটি বা ক্লাব কার্যক্রমেও সময় ও শক্তি ব্যয় হয়। এই সমস্ত কারণে শিক্ষার্থীরা হতাশ, উদ্বিগ্ন বা কখনও কখনও ঘুম না হওয়া, মাথাব্যথা, চোখে সমস্যা বা মনোযোগে ব্যাঘাতের মতো শারীরিক সমস্যা অনুভব করে।


স্ট্রেস এবং উদ্বেগ দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করে। এটি কেবল পড়াশোনার ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলে না, বরং আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক শিক্ষার্থী চাপের কারণে বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ কমায়। তাই মানসিক চাপ মোকাবিলার উপায় জানা এবং সেগুলো প্রয়োগ করা শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য।


স্ট্রেস কমানোর প্রথম উপায় হলো সঠিক পরিকল্পনা ও সময় ব্যবস্থাপনা। প্রতিদিনের কাজ ও পড়াশোনার জন্য একটি রুটিন তৈরি করা উচিত। কোন বিষয়ের ওপর কত সময় ব্যয় করতে হবে তা নির্ধারণ করলে মন আরও শান্ত থাকে। বড় অ্যাসাইনমেন্ট বা পরীক্ষা ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে কাজ করলে চাপ কমে যায়।


শারীরিক ব্যায়াম স্ট্রেস মোকাবিলার জন্য খুব কার্যকর। দৌড়ানো, হাঁটাহাঁটি, যোগব্যায়াম বা খেলাধুলা মস্তিষ্কে এন্ডোরফিন নিঃসরণ বাড়ায়, যা মন ভালো রাখে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের ঘুম কম হলে মনোরোগ, চাপ এবং উদ্বেগ বাড়ে। তাই ঘুম এবং বিশ্রামকে উপেক্ষা করা ঠিক নয়।


ধ্যান, শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মাইন্ডফুলনেস প্র্যাকটিসের মাধ্যমে শিক্ষার্থী তার মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। নিয়মিত কয়েক মিনিটের ধ্যান বা গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়া মনকে শান্ত করে এবং উদ্বেগ কমায়। এটি পরীক্ষার আগে, হোমওয়ার্ক বা চাপপূর্ণ সময়ে খুব উপকারি।


বন্ধু, পরিবার বা শিক্ষকের সঙ্গে উদ্বেগ এবং সমস্যার কথা বলা শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক। কথোপকথনের মাধ্যমে মানসিক বোঝা ভাগ করা যায় এবং সমাধানের দিক পাওয়া যায়। এছাড়া সহপাঠীদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ও স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।


শখ, সঙ্গীত, চিত্রকলা বা লেখালিখি—এই ধরনের সৃজনশীল কার্যকলাপ শিক্ষার্থীদের মনকে পুনরুজ্জীবিত করে। এটি মানসিক চাপ হ্রাস করে এবং শিক্ষার্থীর মধ্যে সুখের অনুভূতি বাড়ায়। হবি শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনের রুটিন থেকে বিরতি দেয় এবং তাদের মনকে শান্ত রাখে।


সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অতিরিক্ত ব্যবহারও স্ট্রেস বাড়ায়। শিক্ষার্থীদের উচিত সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার সীমিত রাখা। দিনে নির্দিষ্ট সময়ে অনলাইন থাকা এবং অন্য সময়ে অফলাইনে থাকা মানসিক চাপ কমায়।


শিক্ষার্থীদের স্ট্রেস, চাপ এবং উদ্বেগ জীবনের স্বাভাবিক অংশ হলেও, তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক পরিকল্পনা, শারীরিক ব্যায়াম, ধ্যান, সামাজিক সহযোগিতা এবং সৃজনশীল কার্যকলাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারে। এই উপায়গুলো বাস্তবায়ন করলে তারা শুধুমাত্র পড়াশোনায় সফল হয় না, বরং সুখী ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করতে পারে। স্ট্রেস মোকাবিলা করার ক্ষমতা শিক্ষার্থীর জন্য ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews