আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতে বড়দিন উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হুমকির ঘটনা সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফ এবং টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশজুড়ে বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টানদের বড়দিন উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গির্জাগুলোতে ভক্তদের উপস্থিতি ও শুভেচ্ছা বিনিময় চললেও এবারের বড়দিন উদযাপনকে আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। বিশেষ করে বড়দিন উপলক্ষে গির্জায় প্রার্থনা, সমাবেশ ও সাজসজ্জাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের হুমকি এবং বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কিছু রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্যোগে বড়দিন উদযাপনে সরাসরি বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, গির্জায় প্রার্থনা এবং সাজসজ্জার প্রস্তুতিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, এবং অনেক জায়গায় বড়দিনের সাজসজ্জা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে এবং বৃহত্তর সামাজিক উত্তেজনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ এবং কেরালা রাজ্যগুলোতে এ ধরনের ঘটনার খবর বেশি পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-সংশ্লিষ্ট এবং ডানপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলোর যোগসূত্র থাকার অভিযোগ উঠেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সমানাধিকারের ভিত্তিতে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধরনের হুমকির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক সম্প্রতি ও দেশজুড়ে শান্তি বিপন্ন হতে পারে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলেছেন, বড়দিনের মতো ধর্মীয় উৎসব শুধুমাত্র খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জন্য নয়, সমগ্র সমাজের জন্য আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক। তাই এই ধরনের বাধা এবং হুমকির ঘটনা শুধু নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নয়, সমগ্র সমাজকে নেতিবাচক প্রভাবিত করতে পারে।
ভারতে বড়দিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ধর্মীয় সহনশীলতা এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় এবং কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক নজর কেড়েছে এবং ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি বড়দিন উদযাপনেও আতঙ্ক ও নিরাপত্তার বিষয়গুলি বেশি দেখা গেছে। গির্জায় উপস্থিতি কমেছে, আর লোকেরা সাবধানতার সঙ্গে উৎসব পালন করছে। তবে দেশজুড়ে কিছু স্থান এখনও উদযাপনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ভারতের বড়দিন উদযাপনকে বাধাগ্রস্ত করার প্রচেষ্টা এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে হুমকির ঘটনা সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ধর্মীয় সহনশীলতা ও সামাজিক শান্তি বিপন্ন হতে পারে।