দেশের চিত্র প্রতিবেদন
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক প্রভাবশালী ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন এবং দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
খালেদা জিয়ার জন্ম ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী হিসেবে তিনি প্রথমে জনসমক্ষে পরিচিত হলেও, পরবর্তীতে নিজ যোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণে তিনি একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দলকে সংগঠিত করেন।
তিনি তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত। ১৯৯১ সালে স্বৈরশাসন-পরবর্তী সময়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকা ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর শাসনামলে অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ়চেতা ও আপসহীন নেত্রী। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি কখনোই সহজে সমঝোতায় যাননি। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক, আর সমালোচকদের মতে তাঁর শাসনামলে দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি ছিল একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিল রোগে ভুগে অবশেষে মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ সকাল ৬টায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। তাঁর প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেন।
সব মিলিয়ে, খালেদা জিয়া ছিলেন একজন শক্তিশালী, সাহসী ও বিতর্কিত রাজনৈতিক নেত্রী। তাঁর রাজনৈতিক জীবন, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা—সবকিছু মিলিয়ে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবেন।