মৌলভীবাজার প্রতিবেদক
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সিলেট বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা হলো মৌলভীবাজার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা বাগান, বনভূমি, নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক গুরুত্বের কারণে মৌলভীবাজার জেলা দেশের অন্যতম বিখ্যাত জেলা হিসেবে পরিচিত। এই জেলার ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ একে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।
মৌলভীবাজার জেলা সবচেয়ে বেশি পরিচিত চা শিল্পের জন্য। এ জেলায় দেশের সর্বাধিক চা বাগান অবস্থিত। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলায় বিস্তৃত সবুজ চা বাগান পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শ্রীমঙ্গলকে ‘চায়ের রাজধানী’ বলা হয়। এখানকার উৎপাদিত চা শুধু দেশের চাহিদা মেটায় না, বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। চা শিল্প মৌলভীবাজার জেলার অর্থনীতির একটি প্রধান ভিত্তি।
এই জেলা প্রাকৃতিক বন ও জীববৈচিত্র্যের জন্যও বিখ্যাত। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান মৌলভীবাজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বনাঞ্চল। এখানে বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী দেখা যায়। প্রকৃতি প্রেমী ও গবেষকদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান। এছাড়া হাকালুকি হাওর, যা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির জলাভূমি, মৌলভীবাজারের একটি অংশ জুড়ে বিস্তৃত। শীতকালে এখানে দেশি-বিদেশি পরিযায়ী পাখির সমাগম ঘটে।
মৌলভীবাজার জেলা পর্যটন শিল্পেও সমৃদ্ধ। শ্রীমঙ্গলের মাধবপুর লেক, বাইক্কা বিল, নীলকণ্ঠ কেবিনের সাত রঙের চা, লাউয়াছড়া বন, চা গবেষণা ইনস্টিটিউট—সব মিলিয়ে এটি একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিবছর দেশ-বিদেশের হাজারো পর্যটক এখানে ভ্রমণ করতে আসেন।
এই জেলা নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতির জন্যও পরিচিত। মৌলভীবাজারে খাসি, মণিপুরি, সাঁওতালসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তাদের নিজস্ব ভাষা, পোশাক, উৎসব ও সংস্কৃতি জেলার সামাজিক বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে মণিপুরি নৃত্য ও সংস্কৃতি দেশজুড়ে সুপরিচিত।
এছাড়া মৌলভীবাজার প্রবাসী অধ্যুষিত জেলা হিসেবেও পরিচিত। এই জেলার অনেক মানুষ যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বসবাস করেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স জেলার অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
চা বাগানের সবুজ সৌন্দর্য, বনভূমি, হাওর, পর্যটন কেন্দ্র ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির কারণে মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের একটি অনন্য ও বিখ্যাত জেলা। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে এই জেলা দেশের গর্ব হিসেবে বিবেচিত।