আন্তর্জাতিক ডেস্ক
গাজায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সাধারণ ক্ষমা দেওয়া হতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
রয়টার্সকে দেওয়া এক বক্তব্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে অস্ত্র সমর্পণকারী ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের জন্য সাধারণ ক্ষমার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, “আমরা তাদের অনেকের মুখেই নিরস্ত্রীকরণের কথা শুনছি। যদি তারা তা না করে, তাহলে চুক্তি ভঙ্গ হবে। নিরস্ত্রীকরণের সঙ্গে কোনো না কোনো ধরনের সাধারণ ক্ষমা যুক্ত থাকবে বলেই আমরা মনে করি।”
এদিকে ইসরায়েল গাজা থেকে শেষ ইসরায়েলি বন্দির মরদেহ উদ্ধার করার পর যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে ফ্রান্স।
ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র পাস্কাল কঁফাভ্রু বলেন, গাজায় আর কোনো বন্দি না থাকা “গভীর স্বস্তির” বিষয়। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে প্রবেশের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি, ব্যাপক মানবিক সহায়তা এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথ সুগম হবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাতে ইসরায়েলি হামলায় ৭১ হাজার ৬৬০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হন এবং গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়।
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১,৩০০টির বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে হামাস নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতির সব শর্ত পূরণ করতে হবে—বিশেষ করে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ার বিষয়ে।
রোববার ইসরায়েল জানায়, গাজায় থাকা শেষ ইসরায়েলি বন্দি রান গিভিলির মরদেহ তারা উদ্ধার করেছে। অভিযানের সময় গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ভারী গোলাবর্ষণ ও বুলডোজার চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৮৬ জন নিহত এবং ১,৩৪১ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা প্রবেশ এখনো কঠোরভাবে সীমিত রয়েছে।
সূত্র : মিডল ইস্ট আই