1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতসহ লাখো নাগরিক রাষ্ট্রহীন হওয়ার আশঙ্কা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রিটেনে প্রস্তাবিত নতুন নাগরিকত্ব আইন অনুসারে, দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘চরম ও গোপন’ ক্ষমতার কারণে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম বংশোদ্ভূত লাখো মানুষ—বাংলাদেশি, পাকিস্তানি ও ভারতীয়সহ—নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। মানবাধিকার সংস্থা রানিমিড ট্রাস্ট ও রিপ্রিভের যৌথ প্রতিবেদনে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৯০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ ব্রিটেনের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ নাগরিকত্ব হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে যাদের পারিবারিক বা বংশগত সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার সঙ্গে রয়েছে, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

অফিস ফর ন‌্যাশন‌াল স্ট্যাটিসটিকসের সাম্প্রতিক তথ্য দেখাচ্ছে, শ্বেতাঙ্গদের মধ্যেও ৪১ শতাংশ নাগরিক নোটিশ ছাড়াই নাগরিকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। ২০০৬ সাল থেকে ব্রিটেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে দ্বৈত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিল করার ক্ষমতা রয়েছে। ২০১৪ সালে এই ক্ষমতা আরও সম্প্রসারিত করা হয়; তখন বলা হয়, বিদেশে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিকদেরও সরকার ‘জনস্বার্থে’ রাষ্ট্রহীন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

নতুন খসড়া বিলটি পাস হলে এই ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হবে। বিলের ৯টি ধারা অনুযায়ী, সরকার জনস্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে নাগরিকত্ব বাতিল করতে পারবে এবং এর জন্য কোনো নোটিশ বা আবেদনকারীর সুযোগের প্রয়োজন হবে না।

২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিটেনে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি ব্রিটিশ নাগরিক বসবাস করছেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই বিল না পাসের জন্য সচেতনতা বাড়াচ্ছে।

একজন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি আইনজীবী মন্তব্য করেছেন, “ব্রিটেনের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব বিলটি কোনো নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া নাগরিকত্ব বাতিলের সুযোগ দিচ্ছে, যা মানবাধিকারের পরিপন্থি। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। এতে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার হরণ হবে। এটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।”

বিলটি কার্যকর হলে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ নাগরিকসহ লাখো মানুষের নাগরিকত্ব হুমকির মুখে পড়বে। আইন প্রণেতাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক সংগঠনগুলোও সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews