অর্থনীতি ডেস্ক
বিশ্ববাজারে ডলারের মান কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের দামের পতনের ফলে স্বর্ণের দামে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ কমে আসায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আবারও স্বর্ণের দিকে বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২৫ মার্চ স্বর্ণের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। স্পট গোল্ডের দাম ১.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৬০০ ডলারে পৌঁছেছে, যা সপ্তাহের শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।
এর আগে সপ্তাহের শুরুতে স্বর্ণের দাম চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে ডলারের মান কমে যাওয়ায় স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়েছে, ফলে চাহিদা আবার বাড়তে শুরু করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতাও স্বর্ণের বাজারকে প্রভাবিত করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় বাজারে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান এক বিশ্লেষণে বলেছে, সাম্প্রতিক দরপতনের পরও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজার ইতিবাচক থাকতে পারে। তাদের মতে, বৈশ্বিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা আরও বাড়বে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। রুপার দাম ২.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৭৩.০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও সামান্য বেড়েছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়লেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) টানা ষষ্ঠবারের মতো স্বর্ণের দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা কমে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ও ১৮ ক্যারেট এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও কমানো হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি দরপতনের প্রভাবেই দেশের বাজারে এই সমন্বয় করা হয়েছে। ফলে টানা ছয় দফায় মোট প্রায় ২৮ হাজার ৯৮৫ টাকা পর্যন্ত স্বর্ণের দাম কমেছে।