আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বাংলাদেশে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনার পাশাপাশি হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে ভলকার তুর্ক বলেন, গত সপ্তাহে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু তাকে গভীরভাবে বিচলিত করেছে। তিনি বলেন, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই গভীর উদ্বেগের বিষয়।
দেশবাসীর প্রতি শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান বলেন, সবাইকে সহিংসতা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং সমাজে বিভাজন বাড়াবে। একই সঙ্গে এতে মৌলিক মানবাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
ভলকার তুর্ক বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে অবশ্যই হাদির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, হাদির মৃত্যুর পর দেশে যে বিক্ষোভ ও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, তাতে কিছু স্থানে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েকজন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এমন পরিস্থিতিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ভলকার তুর্ক বলেন, এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে সব নাগরিক নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে জনজীবনে অংশ নিতে পারবেন এবং ভিন্নমত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবেন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টেকসই করতে সহিংসতা নয়, আইনের শাসনই হতে হবে প্রধান ভিত্তি।
জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশে মানবাধিকার সুরক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তার দপ্তর অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।