লাইফস্টাইল ডেস্ক
মধু একটি প্রাকৃতিক খাদ্য ও ঔষধ, যার উপকারিতা মানবজাতি প্রাচীনকাল থেকেই জেনে আসছে। ইসলাম ধর্মে মধুর গুরুত্ব অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে কুরআন ও হাদীসে উল্লেখিত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা মধুকে শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, বরং রোগমুক্তির একটি মাধ্যম হিসেবেও মানবজাতির জন্য উপহার দিয়েছেন।
পবিত্র কুরআনের সূরা আন-নাহল (মৌমাছি) নামক সূরায় আল্লাহ তাআলা মধু সম্পর্কে বলেন—
“তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙের পানীয় নির্গত হয়, তাতে মানুষের জন্য রয়েছে আরোগ্য।”
(সূরা আন-নাহল: ৬৯)
এই আয়াত থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে মধুর মধ্যে আরোগ্য বা চিকিৎসাগত গুণাবলি রয়েছে। কুরআন বিজ্ঞানসম্মতভাবে বহু শতাব্দী আগেই মধুর স্বাস্থ্যগত উপকারিতার কথা ঘোষণা করেছে, যা আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে আজ প্রমাণিত।
হাদীসেও মধুর গুরুত্ব বিশেষভাবে উল্লেখিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
“তোমরা দুইটি আরোগ্যদায়ক বস্তু ব্যবহার করো: মধু ও কুরআন।”
(ইবনে মাজাহ)
এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে মধু শুধু শারীরিক রোগের জন্য নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাসূল ﷺ নিজেও মধু পছন্দ করতেন এবং অসুস্থ হলে মধু ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন।
মধুর উপকারিতার মধ্যে অন্যতম হলো— এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, পেটের সমস্যা দূর করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং দেহে শক্তি যোগায়। মধু জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়ক। এছাড়া এটি হৃদরোগ, কাশি, সর্দি ও গলার সমস্যায় উপকারী।
আধুনিক গবেষণায় দেখা গেছে, মধুতে রয়েছে প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রাকৃতিক ও হালাল খাদ্য গ্রহণের যে নির্দেশনা রয়েছে, মধু তার অন্যতম উৎকৃষ্ট উদাহরণ।
সবশেষে বলা যায়, কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী মধু আল্লাহর একটি বিশেষ নিয়ামত। এটি শুধু খাদ্য নয়, বরং একটি প্রাকৃতিক চিকিৎসা। তাই আমাদের উচিত সুন্নাহ অনুসরণ করে নিয়মিত ও পরিমিতভাবে মধু গ্রহণ করা এবং আল্লাহর এই অনন্য দান থেকে উপকৃত হওয়া।