শিক্ষা ডেস্ক
দেশের শিক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০’-এর সংশোধিত খসড়া চূড়ান্ত করেছে, যেখানে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে আজ (২ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশোধিত আইনে পাবলিক পরীক্ষার সংজ্ঞা বিস্তৃত করা হয়েছে। এতদিন শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরীক্ষাগুলোই মূলত পাবলিক পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হতো। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী বিসিএসসহ সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি নিয়োগ পরীক্ষাও এই আইনের আওতায় আসবে।
ফলে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতি ঘটলে তা সরাসরি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
খসড়া আইনে পরীক্ষার ফলাফল জালিয়াতি বা ঘষামাজার ক্ষেত্রে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র পরীক্ষার ফল পরিবর্তন, মেধাতালিকা বিকৃত বা জাল সনদ তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড অথবা ১ কোটি টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
এটি পরীক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর অনিয়মের বিষয়টি বিবেচনায় এনে আইনে “ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন” নামে নতুন একটি অপরাধ যুক্ত করা হয়েছে।
মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্লুটুথ, হেডফোনসহ যেকোনো ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষায় কারচুপি করলে তা এই অপরাধের আওতায় পড়বে। পাশাপাশি ফলাফল হ্যাকিং বা অনলাইনে পরিবর্তন করাও একইভাবে শাস্তিযোগ্য হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্রে নিষিদ্ধ ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস বহন বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড বা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এর মাধ্যমে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রযুক্তিনির্ভর নকল প্রতিরোধ আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংগঠিতভাবে প্রশ্নফাঁস বা জালিয়াতি চক্র গঠনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশোধিত আইনে ‘স্বীকৃত কর্তৃপক্ষ’ নামে নতুন একটি ধারণা যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন পরীক্ষানিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এর ফলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অধীনে পরিচালিত পরীক্ষাগুলোকে একই আইনের আওতায় এনে সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
প্রায় ৪৫ বছর আগে প্রণীত বিদ্যমান আইনটি বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে জালিয়াতির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় আইন সংশোধন জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে নিয়োগ পরীক্ষাগুলো এতদিন এই আইনের বাইরে থাকায় নতুন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষাকে সামনে রেখে নকল ও প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে এই আইন দ্রুত কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন সংশোধিত আইনটি দেশের শিক্ষা ও নিয়োগ পরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, নজরদারি এবং কঠোর প্রয়োগের ওপরই এর সফলতা নির্ভর করবে।