1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ জার্নালিজম কনফারেন্সে উদ্বেগ ‘বিশ্বব্যাপী সাংবাদিকতা এখন বড় ঝুঁকিতে’ আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়াযুদ্ধ: বেপরোয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক ব্রিটেনে ইতিহাস গড়লেন সিলেটের ফরহাদ, নিউহ্যামের নতুন মেয়র নির্বাচিত ওয়েলসের সিনেড নির্বাচনে বড় জয় প্লেইড কামরির, রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন টাওয়ার হ্যামলেটসে আবারও জয়ী লুৎফুর রহমান, বড় ধাক্কায় লেবার পার্টি মিথ্যা ধর্ষণ মামলা দিয়ে আলেমদের ফাঁসানোর অভিযোগ: সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো যা ভাবাচ্ছে মাইলস্টোন ট্র্যাজেডিতে ডা. সামন্ত লালের সহায়তার প্রস্তাব নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার: হুম্মাম কাদের পশ্চিমবঙ্গ ইস্যুতে নাহিদ ইসলামের উদ্বেগ ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ ইসলামের দৃষ্টিতে মা-বাবার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্য

আন্ডারওয়ার্ল্ডের ছায়াযুদ্ধ: বেপরোয়া শীর্ষ সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্যে আতঙ্ক

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৯ মে, ২০২৬

দেশের চিত্র প্রতিবেদন

দেশের অপরাধজগতে দীর্ঘদিন ধরেই প্রভাব বিস্তার করে আসছে আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতর ও বাইরে অবস্থান নেওয়া এসব অপরাধী গোষ্ঠী একের পর এক টার্গেট কিলিং, গুলিবর্ষণ ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় পুরোনো দাগি আসামিদের পাশাপাশি নতুন শুটারদের নামও উঠে এসেছে। স্বার্থে আঘাত লাগলেই সহযোগীদের ব্যবহার করে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিপক্ষকে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হত্যার নেপথ্যের নির্দেশদাতারা থেকে যাচ্ছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে অনেক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য অজানাই থেকে যাচ্ছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, আসন্ন কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি এবং রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে ঘিরে আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ডের পর এ উত্তাপ আরও বেড়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির মাধ্যমে কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর চাঁদাবাজির তথ্য মিললেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, টার্গেট কিলিংয়ের আশঙ্কায় অনেকেই নীরবে আপস করে নিচ্ছেন।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের এমন তৎপরতায় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিদেশি নম্বর থেকে ফোন এলেই শঙ্কিত হয়ে উঠছেন অনেকে। ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা, পোশাক কারখানার ঝুট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ঠিকাদারি ও স্থানীয় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের প্রভাব ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, জামিনে থাকা সন্ত্রাসীদের কঠোর নজরদারিতে এনে দৃশ্যমান শাস্তির ব্যবস্থা করা গেলে সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়বে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জামিনে মুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং কোনো অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্র জানায়, আন্ডারওয়ার্ল্ডে আধিপত্য বিস্তার, চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারা, নতুন এলাকা নিয়ন্ত্রণ এবং টেন্ডার বা ইজারা দখলকে কেন্দ্র করেই বেশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোনো শুটার আলোচনায় এলে তাকে ঠেকাতেও প্রতিপক্ষ সক্রিয় হয়ে ওঠে। বড় অঙ্কের প্রকল্পের কাজ পাওয়া ঠিকাদার বা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করা হয়। দাবি না মানলেই শুরু হয় হত্যার পরিকল্পনা।

গত দেড় বছরে রাজধানীতে ঘটে যাওয়া একাধিক টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সবশেষ ২৮ এপ্রিল নিউমার্কেট এলাকায় টিটন হত্যাকাণ্ডের পর বসিলা পশুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি সামনে আসে। তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু পশুর হাট নয়, এর পেছনে আরও বড় স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

সূত্র জানায়, গাবতলী থেকে মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার হয়ে লালবাগ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন, যিনি বর্তমানে উত্তর আমেরিকার একটি দেশে অবস্থান করছেন। টিটন তাঁর আত্মীয় হলেও হত্যাকাণ্ডে ইমনের সম্পৃক্ততার সন্দেহ উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যদিও মামলায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে রায়েরবাজারে জোড়া খুনের ঘটনার পর থেকেই আন্ডারওয়ার্ল্ডের সংঘাত নতুন করে আলোচনায় আসে। একইভাবে গুলশানে ব্যবসায়ী টেলি সুমন হত্যা, বাড্ডায় বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন হত্যা এবং আদালতপাড়ায় তারিক সাইফ মামুন হত্যার ঘটনায়ও বিদেশে অবস্থানরত সন্ত্রাসীদের নাম উঠে আসে। তবে তারা দেশের বাইরে থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধরাই থেকে যাচ্ছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘটনার পর মাঠপর্যায়ের শুটার বা সহযোগীরা গ্রেপ্তার হলেও মূল নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনা কঠিন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জামিনে মুক্ত হয়ে অনেক সন্ত্রাসী নিজেদের এলাকায় পুনরায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। এতে আন্ডারওয়ার্ল্ড আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনায় থাকা কয়েকজনের মধ্যে রয়েছে ইমন, পিচ্চি হেলাল, মেহেদী, কিলার আব্বাস, শাহাদাত হোসেন, জিসান আহমেদ, হাবিবুর রহমান তাজ, ইমাম হোসেন ও ফ্রিডম রাসুর নাম।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অপরাধী দেশে বা বিদেশে—যেখানেই থাকুক না কেন, তদন্তে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, বিদেশে অবস্থানরতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট কার্যক্রম চালানো হবে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews