অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত শাহ আলী মাজারে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এই নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত হামলা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যবিরোধী শক্তির উত্থান এবং দেশব্যাপী বহুমত, বহুধর্ম ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর চলমান সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা।”
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। পরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে আবহমান বাঙালির উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের চর্চার ক্ষেত্র ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার একটি সুদূরপ্রসারী অপচেষ্টার অংশ এটি। মুক্তচিন্তা ও সহিষ্ণু আচরণের ধারক-বাহক দেশবাসীর জন্য এটি অশনিসংকেত।”
ড. ইফতেখারুজ্জামান লোকজ ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং সহাবস্থানের প্রশ্নে জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনার ধারক শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকারের দায়িত্ব হলো সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থানবিরোধী এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা শাহ আলী মাজারে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অতীতের সহিংস ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের কার্যকর দৃষ্টান্ত স্থাপন করা গেলে শাহ আলী মাজারের এ ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতে পারত।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ শুধু অস্বীকার করাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের চেতনার পাশাপাশি দেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক সহাবস্থানের বিষয়ে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে দল ও অঙ্গসংগঠনের যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক অপরাধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও বিশ্বাসের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম, সংস্কৃতি ও চর্চা লালন করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত। এ অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের পাশাপাশি সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী এবং সংসদের বাইরের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনেরও।
এ ক্ষেত্রে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেছে টিআইবি।