কুমিল্লায় আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় প্রায় ১০ বছর পর অবসরপ্রাপ্ত এক সেনাসদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান। তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তাকে কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে আটক করে।
বুধবার বিকেলে তাকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ এক দশক পর এই মামলায় প্রথম কোনো অভিযুক্তকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হলো।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম আদালতের কাছে তিন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচ করার অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলম।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মামলাটিতে ৮০টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে এবং চারটি সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেছেন।
গ্রেফতারের খবর পেয়ে সন্ধ্যায় তনুর বাবা ইয়ার হোসেন, মা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন আদালতে উপস্থিত হন। তনুর বাবা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই গ্রেফতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন সম্ভব বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট সব আসামির গ্রেফতার দাবি জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার রহস্য উদঘাটনে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।