1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০১:৪৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
ইউরোপ, আমেরিকা, আরব বিশ্ব ও বাংলাদেশে ধর্ষণ আইন ও বিচারব্যবস্থা: বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় জনমনে আতঙ্ক যোগদানের এক সপ্তাহের মাথায় প্রত্যাহার মৌলভীবাজারের এসপি সিলেটে ছুরিকাঘাতে র‍্যাব সদস্য নিহত, আটক ১ থানার পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ: ‘ন্যায়বিচারের বদলে হয়রানি’, বললেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২০২৬ সালের প্রথম ৫ মাসেই অন্তত ১৮০ শিশু ধর্ষণ এপ্রিল–মে ২০২৬: অপরাধ, সহিংসতা ও উদ্বেগে বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর পদত্যাগ চায় অধিকাংশ নেটিজেন দেশে সংঘটিত অপকর্মের পেছনে জামায়াত জড়িত: দুদু

সিলেটে নারী ও শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি: উদ্বেগ, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতায় জনমনে আতঙ্ক

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
দেশের চিত্র প্রতিবেদক
সিলেট বিভাগজুড়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কয়েকটি নৃশংস ও হৃদয়বিদারক ঘটনা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ধর্ষণ, কিশোরী নির্যাতন এবং মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধের বিস্তার সিলেটের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সচেতন মহল বলছে, দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির অভাবেই এসব অপরাধ বেড়ে চলেছে।

সম্প্রতি সিলেটের একটি এলাকায় এক কিশোরীকে গোপন কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ সামনে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকাসক্ত কয়েকজন যুবক পরিকল্পিতভাবে ওই কিশোরীকে জিম্মি করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর মেয়েটি চরম মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তারা অভিযোগ করেন, অপরাধীদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পেতে ভয় পান। স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধও জরুরি।

এদিকে, সিলেটের জালালাবাদ থানায় ধর্ষণের পৃথক আরেকটি ঘটনায় দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর পরিবারের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। জালালাবাদ থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত গুরুত্বের সঙ্গে করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা শুধু আইন-শৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি সমাজের নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রতিফলন। তারা মনে করেন, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শিশুদের সুরক্ষা, নারীদের প্রতি সম্মানবোধ এবং সামাজিক মূল্যবোধ জোরদার না হলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা আরও বলেন, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীদের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ আস্থা হারাচ্ছে। তাই দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের কার্যকারিতা বাড়ানো, ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

সিলেটবাসীর প্রত্যাশা, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তুলেই কেবল এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews