সম্পাদকীয়
দেশে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। সরকারি হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৩৮ শিশু মারা গেছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ১৮৫ শিশু। এসব শিশুর অনেকের ক্ষেত্রেই নিশ্চিতভাবে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, ফলে সঠিক চিকিৎসা প্রদানও অনিশ্চিত থেকে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষার সীমাবদ্ধতাই এই অনিশ্চয়তার প্রধান কারণ। চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) দেশে সংক্রামক রোগ চিকিৎসার একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান। সেখানে উন্নত ল্যাব সুবিধা থাকলেও হাম শনাক্তের পরীক্ষা নিয়মিতভাবে করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রোগীদের নমুনা ঢাকার পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে (এনপিএমএল) পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের আগেই শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। ফলে তাদের “উপসর্গভিত্তিক মৃত্যু” হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে বিআইটিআইডির ১২০ শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ১৫–২০ জন হাম বা উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং মা ও শিশু হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন। তবুও বিআইটিআইডিতে কোনো আইসিইউ সুবিধা নেই, যা পরিস্থিতিকে আরও সংকটময় করে তুলেছে।
করোনাকালে চালু করা আইসিইউ পরবর্তীতে বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্যাপ্ত আইসিইউ সুবিধার অভাবই শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ। প্রয়োজনীয় কিট সরবরাহ করা হলে বিআইটিআইডিতেই হাম শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালু করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, ঢাকায় পাঠানো নমুনার রিপোর্ট পেতে দেরি হচ্ছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলছে।
হাম নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সুবিধা বিশেষ করে আইসিইউ ও ল্যাব সুবিধা—বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।