যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যদিও আগে তিনি তা বাড়ানোর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের জন্ম দিয়েছে।
হোয়াইট হাউসে জাতীয় নিরাপত্তা টিমের সঙ্গে বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত আসে। নতুন ঘোষণায় যুদ্ধবিরতির নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না থাকায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। তবে এতে মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্র আগে ইরানকে কয়েকটি শর্ত দিয়েছিল, যা পূরণ করে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু তেহরান থেকে কোনো স্পষ্ট সাড়া না আসায় কূটনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন ও নেতৃত্ব সংকট এ নীরবতার কারণ হতে পারে।
বিশেষ করে সম্ভাব্য নেতৃত্ব পরিবর্তন এবং নীতিনির্ধারণে মতপার্থক্যের কারণে ইরান এখনো একক অবস্থান নিতে পারছে না বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে পাকিস্তানের মাধ্যমে মধ্যস্থতার চেষ্টা হলেও তাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। আসিম মুনির এর মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের উদ্যোগও ফলপ্রসূ হয়নি বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরান সরকারকে “বিভক্ত” আখ্যা দিয়ে বলেছেন, একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি বহাল থাকবে। তিনি কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি আগ্রহী হলেও, ইরানের প্রধান দাবি—হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার—তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অবরোধ অব্যাহত রেখে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা অর্থহীন এবং প্রয়োজনে সামরিক জবাব দেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেও মতভেদ দেখা গেছে। কিছু উপদেষ্টা মনে করছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়া যুদ্ধবিরতি বাড়ানো হলে ইরান সময়ক্ষেপণের সুযোগ পেতে পারে এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের ঝুঁকি বাড়বে।
তবুও ট্রাম্প আশাবাদী যে, তিনি পূর্ববর্তী পারমাণবিক চুক্তির চেয়েও শক্তিশালী একটি নতুন সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সমঝোতা না হলে দ্রুত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম।