অনলাইন ডেস্ক
দেশের বিদ্যুৎ খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণের পাশাপাশি নীতিমালা সহজীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে বড় আকারে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
তিনি আরও বলেন, এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা খুব শিগগিরই কাজ শুরু করবে। প্রয়োজনে বিদ্যমান নীতিমালা সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে দ্রুত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
ড. নাসিমুল গনি জানান, সরকারি জমি বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও অন্যান্য অব্যবহৃত স্থানে ছোট ও মাঝারি আকারের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি জমির কার্যকর ব্যবহারও নিশ্চিত হবে।
তবে পূর্ববর্তী কিছু সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রত্যাশিত সফলতা অর্জন করতে না পারায় নতুন করে নীতিমালা ও বাস্তবায়ন কাঠামো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকার এবার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ করে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিট ব্যয় চার থেকে আট টাকার মধ্যে থাকতে পারে, যা প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুটি জাতীয় দিবস সম্পর্কেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ৬ জুলাইকে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে প্রতিবছর পালিত হবে, তবে এদিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না। একইসঙ্গে ৭ নভেম্বরকে আগের মতো জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। তবে বাজারের অস্থিরতা ও কিছু ব্যবসায়িক আচরণের কারণে জ্বালানি বিতরণে সাময়িক সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানো হবে এবং সরকারি সহায়তায় বিনিয়োগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। গঠিত কমিটি শিগগিরই একটি বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কার্যক্রম শুরু করবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিয়ে সরকার একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলার দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।