1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
খাগড়াছড়িতে সেনাবাহিনীর পৃথক অভিযান: এক সশস্ত্র সদস্য নিহত, অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার আজকের ই-পেপার 20/06/2026 সাইবার বুলিং: প্রতিরোধ ও প্রতিকার আসিফ আদনান: ডিজিটাল যুগে বাংলাদেশের ইসলামপন্থী উগ্রবাদের নতুন মুখ নিও-জেএমবি: বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য এক জটিল চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে হামাসের জঙ্গি তৎপরতা মোদিকে দেখতে অত্যন্ত ভদ্র মনে হলেও বাস্তবে ‘টোটাল কিলার’: ট্রাম্প বিএনপির ছত্রছায়ায় আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা জামিন পাচ্ছে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের নেপথ্যে কী? গণআন্দোলন, অভিযোগ ও আইনি পদক্ষেপের বিশ্লেষণ আ.লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সংঘর্ষের আশঙ্কা, দেশজুড়ে সতর্কবার্তা পুলিশের

ইউনূস আমলে টিকার ঘাটতি, হামের প্রাদুর্ভাবের বড় কারণ: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে হামের সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে টিকার ঘাটতি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির দুর্বলতাকে দায়ী করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সংস্থাটি বলছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকাদান ব্যবস্থায় ঘাটতি তৈরি হওয়ায় দেশের দীর্ঘদিনের অর্জন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

গত ২৩ এপ্রিল প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দেশে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের আটটি বিভাগের সবগুলোতেই এবং ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক সংক্রমণের ইঙ্গিত বহন করছে।

ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সন্দেহভাজন ১৯ হাজার ১৬১ জন হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৯৭৩ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া এ সময় হাম-সংশ্লিষ্ট ১৬৬টি সন্দেহজনক মৃত্যু এবং নিশ্চিত সংক্রমণে ৩০ জনের মৃত্যুর তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল। ২০০০ সালে প্রথম ডোজ হাম টিকার কভারেজ ছিল ৮৯ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে বেড়ে ১১৮ শতাংশে পৌঁছায়। দ্বিতীয় ডোজের কভারেজও ২০১২ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১২১ শতাংশে উন্নীত হয়। এর ফলে দেশে নিশ্চিত হাম রোগীর হার দীর্ঘ সময় ধরে কমে আসে।

তবে ২০২৪-২০২৫ সালে হাম-রুবেলা টিকার ঘাটতি এবং নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে দুর্বলতার কারণে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। পাশাপাশি ২০২০ সালের পর বড় পরিসরে গণটিকাদান না হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুর সংখ্যা বেড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাবিহীন ও অপর্যাপ্ত টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে ব্যাপক সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদি জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশে হাম নির্মূলের পথে অর্জিত অগ্রগতির বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে যেসব শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের বেশিরভাগই দুই বছরের কম বয়সী এবং টিকা পায়নি। আক্রান্তদের বড় অংশ হয় টিকাবিহীন ছিল, নয়তো মাত্র এক ডোজ টিকা নিয়েছিল। মোট আক্রান্তের ৯১ শতাংশের বয়স এক থেকে ১৪ বছরের মধ্যে, যা এই বয়সী শিশুদের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। কিছু শিশু ৯ মাস বয়সের আগেই আক্রান্ত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সব বয়সী সংবেদনশীল মানুষকে আক্রান্ত করতে পারে। পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু বিশেষ করে যাদের ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি রয়েছে এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

হামের সাধারণ জটিলতার মধ্যে রয়েছে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, শ্রবণশক্তি হ্রাস ও অন্ধত্ব। গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস, মস্তিষ্কের ক্ষতি এবং মৃত্যুও ঘটতে পারে।

সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দ্রুত নজরদারি জোরদার, রোগী শনাক্তকরণ এবং টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রোগপ্রতিরোধ ঘাটতি পূরণ করা না গেলে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews