1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
Tehran Projects Strength as Unrest Continues এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যুবদল–বিএনপি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক নির্বাচন সামনে রেখে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা বন্ধের নির্দেশ সহিংস বিক্ষোভে ইরানে নিহত অন্তত ৫০ নিরাপত্তাকর্মী, ক্ষয়ক্ষতি বহু শহরে ২৪ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত, কুয়াশায় আচ্ছন্ন নদী অববাহিকা হলফনামায় মির্জা আব্বাসের ৬৮ কোটি টাকার সম্পদ, তিনটি অস্ত্রের তথ্য ১৯ বছর পর পৈতৃক জেলা বগুড়ায় তারেক রহমান, রোববার প্রথম সফর কলম্বিয়ায় সরকার পতনের হুমকি ট্রাম্পের, কিউবা নিয়ে পতনের ইঙ্গিত মাদুরো আটক: যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানের কড়া নিন্দা চীন ও রাশিয়ার মৌলভীবাজার জেলা কী জন্য বিখ্যাত ?

বছরের পর বছর অবহেলায় অযত্নে পড়ে রয়েছে,মৌলভীবাজারের বধ্যভূমি গুলো

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক

বছরের পর বছর অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছে মৌলভীবাজার জেলার বধ্যভূমি গুলি। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও এখনও কয়েকটি স্থান ছাড়া সঠিক নির্ণয় করা যায়নি বধ্যভূমি গুলো। যে গুলো নির্ণয় করে স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে এগুলো সারাবছর জঙ্গলে ভরপুর থাকে।

জানা যায়, ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। যুদ্ধ কালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী
মুক্তিযুদ্ধা ও নিরিহ মানুষদেরকে ধরে এনে নির্মমভাবে গণহত্যা করে বিভিন্ন স্থানে মাটিচাপা দেয়। পরবর্তীতে এসব গণহত্যার স্থান চিহ্নিত করে কয়েকটি বধ্যভূমি ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়। তবে যেসব স্থানে বধ্যভূমি করা হয়েছে এসব স্থান বছরের পর বছর ঝোপজঙ্গলে ভরপুর থাকে। মাঝে মধ্যে বিজয় দিবসে পরিষ্কার করা হলেও সারা বছর অবহেলায় পড়ে থাকে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার ৭ টি উপজেলায় প্রায় ২০ টি বধ্যভূমি আছে। এরমধ্যে মাত্র ৮টি বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে এই সংরক্ষিত বধ্যভূমি গুলো সবসময় ঝোপজঙ্গলে ভরপুর থাকে। গরু ছাগল মল ত্যাগ করে।

সরেজমিনে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা শমশেরনগর ইউনিয়নের শমশেরনগর বিমানবন্দর সংলগ্ন বধ্যভূমি, সম্মুখ সমরের স্মৃতিস্তম্ভ, দেওড়া ছড়া বধ্যভূমি সরকারি ভাবে স্থাপনা তৈরি করা হলেও বাহির থেকে বোঝার উপায় নেই এটা একটা বধ্যভূমি। যে কেউ দেখলে মনে হবে এটা একটা ভূতের বাড়ী। ঘন জঙ্গলে ভরপুর যা সুন্দরবনকেও হার মানাবে।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, জেলার চিহ্নিত বাছাইকৃত বধ্যভূমি গুলো হচ্ছে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর বিমানবন্দর সংলগ্ন বধ্যভূমি, দেওড়া ছড়া, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া গণকবর,
কুলাউড়া উপজেলার হাকাতির দিঘিরপারের গণকবর, কুলাউড়া রেলস্টেশনের দক্ষিণে রেললাইনের পূর্ব পাশের গণকবর, রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের হির নারায়ণ দাসের দিঘিরপারের গণকবর, বড়লেখা উপজেলার সায়পুর গণকবর ও মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাড়ন্তি-নালিউড়ি সড়কের উত্তর পাশের গণকবর ও আপার কাগাবলা ইউপির নড়িয়া গ্রামের কামিনী দেবের বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বের গণকবরসহ বেশ কিছু বধ্যভূমি রয়েছে।

জেলার মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, বধ্যভূমি গুলো হচ্ছে মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম নির্দশন। এখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা নির্বিচারে গণহত্যা করেছে। অথচ এই স্থান গুলো এখন গরু ছাগল ও মানুষের মল-মুত্র ত্যাগের জায়গা। যা অত্যান্ত দুঃখজনক। বিজয় দিবসের আগে বধ্যভূমি গুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হোক।

মুক্তিযোদ্ধা মনু মিয়া বলেন, পঙ্গুত্ব নিয়ে এখনও বেঁচে আছি। বয়স হয়েছে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছি। শমশেরনগর বধ্যভূমিতে অনেক নিরীহ মানুষকে হত্যা করে গণকবর দিয়েছে। দেওড়া ছড়ায় একসাথে প্রায় ৭০ জনকে হত্যা করে গণকবর দিয়েছে। অথচ এসব স্থান গুলো সংরক্ষণ করা হলেও কোন কদর নেই। শুধু এই দুটি নয় সারা জেলায় অনেক গণকবর ও বধ্যভূমি আছে যার চিহ্ন এখন নেই।

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)
মোসা. শাহীনা আক্তার বলেন, মৌলভীবাজার পৌরসভায় একটি বধ্যভূমি আছে যা বিজয় দিবসের আগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়। এছাড়া সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলে দেওয়া হবে বধ্যভূমি গুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য।

Share this Post in Your Social Media

Comments are closed.

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Weekly Desher Chitra developed by LogoMyface