1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৪ অপরাহ্ন

বিএনপির ৬২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬

দেশের চিত্র ডেস্ক

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান ও রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা, চুরি ও চুরিকৃত গাছ কেনাবেচার অভিযোগে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা করেছে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) চুনারুঘাট থানায় মামলা দুটি করা হয়। এর মধ্যে সাতছড়ি বন্যপ্রাণী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বাদী হয়ে ২০ জনের বিরুদ্ধে এবং রেমা-কালেঙ্গা রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা এইচ এম এরশাদ বাদী হয়ে ৪২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে দায়ের করা মামলায় ১৯২৭ সালের বন আইন (২০০০ সালে সংশোধিত) এর ২৬(১ক)-এর (খ) ও (ঘ) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে চুনারুঘাট উপজেলার পাইকপাড়া ইউনিয়নের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে গাছ কেটে নেওয়া হয়। পরে এসব গাছ চুরি ও কেনাবেচা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে চুনারুঘাট উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মারুফ মিয়াকে। এছাড়া উপজেলা যুবদল, শ্রমিকদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। চুরিকৃত গাছ কেনার অভিযোগেও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মোবারক হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা ও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি করা হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে গাছ কাটার অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবে এ মামলা করা হয়েছে।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে গাছ কাটা, চুরি ও বিক্রির অভিযোগে করা মামলায় ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলারও অধিকাংশ আসামি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

দুটি মামলায় মোট ৬২ জনকে আসামি করা হয়েছে। সংরক্ষিত দুটি বনাঞ্চলে গাছ কাটা ও পাচারের অভিযোগে এতসংখ্যক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এদিকে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের দাবি, বনাঞ্চল থেকে গাছ চুরির ঘটনায় প্রকৃতভাবে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে হয়রানি করা হলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

মামলার অন্যতম আসামি মাধবপুর উপজেলার শাহজাহানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সিএমসি সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, মামলায় তার নাম আসায় তিনি বিস্মিত। গাছ কাটা বা চুরির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানান তিনি।

আবুল হোসেন বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন ধ্বংসের সঙ্গে যারা প্রকৃতপক্ষে জড়িত, তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে নিরপরাধ কাউকে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে মামলায় আসামি করা হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

সূত্র: কালবেলা

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews