1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন: বাংলাদেশ কোন পথে যাবে? হাসিনাকে ফেরানোর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক ভারতে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার নেপথ্যে পরীক্ষার চাপ ও প্রশ্ন ফাঁস সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবার পাবে ৫ লাখ টাকা করে কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত ১১ দলীয় জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমেদ ভারতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বাড়ার দাবি, তিন মাসে নিহত ২৫ বিএনপি নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড়, গুলি ও চিঠি এআই দিয়ে ভুয়া অশ্লীল ভিডিও তৈরি, আইনি ব্যবস্থার কথা জানালেন এমপি নাসের রহমান পাকিস্তানে নিরাপত্তা চৌকিতে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৯ পুলিশ সদস্য

মব মানসিকতা: সভ্যতার জন্য এক নীরব হুমকি

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬

সমাজ সভ্যতার পথে এগিয়েছে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও যুক্তিবোধের ওপর ভর করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে “মব কালচার” বা গণউন্মাদনার এক বিপজ্জনক প্রবণতা আমাদের সামাজিক কাঠামোকে গভীরভাবে নড়বড়ে করে তুলছে। কোনো ঘটনা ঘটলেই যাচাই-বাছাই না করে জনতার একটি অংশ তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় উত্তেজিত হয়ে ওঠে, এবং অনেক ক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এই প্রবণতা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধেরও এক ভয়াবহ অবক্ষয়ের ইঙ্গিত বহন করে।

মব কালচারের মূল সমস্যা হলো বিচারহীনতা। যখন কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী সাব্যস্ত করার আগেই জনতা শাস্তি দিতে উদ্যত হয়, তখন ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতি “দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী নয়” সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘিত হয়। গুজব, ভুল তথ্য কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অর্ধসত্য খবর মুহূর্তেই মানুষের আবেগকে উসকে দেয়। ফলাফল নিরপরাধ মানুষও কখনো কখনো মবের শিকার হয়ে প্রাণ হারায় বা গুরুতর ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

এই প্রবণতার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করে। প্রথমত, আইনের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা। যখন মানুষ মনে করে যে বিচারব্যবস্থা ধীর, দুর্বল বা প্রভাবিত, তখন তারা নিজেরাই বিচারক হয়ে উঠতে চায়। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। তথ্য যাচাইয়ের অভাব ও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণে গুজব সহজেই গণআক্রোশে রূপ নেয়। তৃতীয়ত, শিক্ষার অভাব ও সমালোচনামূলক চিন্তার ঘাটতি। যুক্তির পরিবর্তে আবেগের বশবর্তী হয়ে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়।

মব কালচারের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো এর সংক্রামক প্রকৃতি। একজন ব্যক্তি হয়তো একা কখনো এমন সহিংসতায় জড়াত না, কিন্তু জনতার অংশ হয়ে সে নিজের দায়িত্ববোধ হারিয়ে ফেলে। ভিড়ের মধ্যে ব্যক্তিসত্তা মুছে যায়, এবং নৈতিকতার জায়গা নেয় অন্ধ উন্মাদনা। এই পরিস্থিতি সমাজকে ক্রমশ সহিংস ও অনিরাপদ করে তোলে।

এই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন আইনের শাসনকে শক্তিশালী করা। দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরবে, এবং তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা থেকে সরে আসবে। পাশাপাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গুজব ছড়ানো ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও পরিবর্তন জরুরি। শুধু পাঠ্যপুস্তক নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও যুক্তিবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। মানুষকে সচেতন করতে হবে যে, আবেগের বশবর্তী হয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনেক সময় অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়।

আমাদের মনে রাখতে হবে সভ্য সমাজের পরিচয় তার বিচারব্যবস্থায়, প্রতিশোধে নয়। মব কালচার সেই সভ্যতার জন্য এক গভীর হুমকি। তাই সময় থাকতে এই প্রবণতার বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তোলা এবং সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র পথ।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews