1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৫৫ অপরাহ্ন

যুবদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, ভুক্তভোগী স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬

অনলাইন ডেস্ক

বিনা পারিশ্রমিকে দুই হাজারেরও বেশি কিডনি প্রতিস্থাপন করে মানবসেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম। দেশের মানুষের কাছে সম্মান ও ভালোবাসা অর্জনের পাশাপাশি তিনি পেয়েছেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পদক’। তবে এবার এই মানবিক চিকিৎসকই পড়েছেন চাঁদাবাজদের চাপে।

অভিযোগ উঠেছে, রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা যুবদল নেতা মো. মঈন উদ্দিন মঈনের নেতৃত্বে একটি চক্র ডা. কামরুল ইসলামের প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে।

ডা. কামরুল ইসলাম ঢাকার শ্যামলীতে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি)’ হাসপাতাল। প্রায় ১৯ বছর ধরে তিনি বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করে আসছেন। তার পরিচালিত অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার ৯৫ শতাংশেরও বেশি। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালে তিনি স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।

জানা গেছে, গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে তার হাসপাতালের ওপর নজর পড়ে যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন মঈনের। এরপর থেকে তার নেতৃত্বে একটি চক্র বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে আসছে।

অধ্যাপক কামরুল ইসলামের অভিযোগ, গত জুলাই-আগস্টের পর থেকে চক্রটি নিয়মিতভাবে চাঁদা দাবি করছে। কখনো সরাসরি ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, আবার কখনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছে।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে কর্মরত একজনকে ধমক দিচ্ছেন এবং নিজেকে যুবদল নেতা হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি হাসপাতালজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি মঈন উদ্দিন মঈন। তার সহযোগী হিসেবে মাঈনুদ্দিন নামের আরেকজনের সংশ্লিষ্টতার কথাও জানা গেছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে বলেও জানা যায়।

ডা. কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি বিএনপির ঊর্ধ্বতন নেতাদের কাছেও একাধিকবার অভিযোগ করেছেন, তবে এখনো কার্যকর কোনো সমাধান পাননি।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালের খাবার সরবরাহ সংক্রান্ত টেন্ডারকে কেন্দ্র করে মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে সংশ্লিষ্ট চক্রটি। এরপর থেকেই নিয়মিতভাবে চাঁদা দাবি, ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগের ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থানায় উভয় পক্ষকে নিয়ে একটি সমঝোতা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে পুলিশের কাছে সরাসরি চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হয়নি; বরং হাসপাতালের এক কর্মীর সঙ্গে বিরোধকে কেন্দ্র করে কিছু সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews