আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গুরুতর আহত ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির মুখমণ্ডল বিকৃত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তার পায়ের আঘাতও গুরুতর বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এক পা না দুই পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা নিশ্চিত করা যায়নি।
৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি বর্তমানে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং মানসিকভাবে সচেতন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি অডিও মাধ্যমে ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিচ্ছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য বৈঠকসহ সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় তিনি অডিও মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন।
ইসলামাবাদভিত্তিক তার ঘনিষ্ঠ তিনটি সূত্রের বরাতে শুক্রবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি। হামলার পর এবং ৮ মার্চ ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবার কোনো ছবি, ভিডিও বা অডিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তার অবস্থান, শারীরিক সক্ষমতা এবং কার্যকর নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
গত দুই দশক ধরে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দেশটির উত্তেজনা চলমান। এ প্রেক্ষাপটে ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন সংলাপ হলেও তা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক অভিযান চালায়।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন ইরানের দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি প্রায় ৩৭ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। একই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্য নিহত হন এবং মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন।
পরবর্তীতে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আমন্ত্রণে ১২ মার্চ একটি রুশ সামরিক বিমানে করে মস্কো যান মোজতবা। বর্তমানে তিনি সেখানে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স