প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন জোরদার হওয়ার মধ্যেই মধ্যরাতে ভিডিওবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শিক্ষার্থী ও তরুণদের মতামত ও পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে বিশেষ আদালত গঠন এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি খসড়া বিল মন্ত্রিসভায় তোলার আশ্বাস দিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে প্রকাশিত ভিডিওবার্তায় মোদি বলেন, তাঁর বক্তব্যে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ইতিবাচক সাড়া তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। তিনি বলেন, “আপনাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থন আমাদের এই প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।”
ভিডিওবার্তার ক্যাপশনে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, “গতকালের ভিডিওটি দেখে মূল্যবান পরামর্শ পাঠানো সব তরুণকে ধন্যবাদ।”
এর আগে প্রকাশিত আরেক ভিডিওবার্তায় মোদি প্রশ্নপত্র ফাঁসকে লাখো শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ১৯ জুলাই তাদের ফলও প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশেষ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর বিলটি সংসদে উত্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে সরকারকে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের সময়সীমা শনিবার দুপুরে শেষ হচ্ছে। আন্দোলনকারী সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, এর মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শুক্রবার দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংগঠনটির দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে। তবে শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ বা তাঁর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।
এদিকে যন্তর মন্তর এলাকায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদসহ বিভিন্ন শহরেও বিক্ষোভ চলছে।
সরকার ইতোমধ্যে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত জোশিকে বদলি করেছে এবং জাতীয় পরীক্ষা সংস্থা (এনটিএ) থেকে ৪৭ জন কর্মীকে বরখাস্ত করেছে। তবে এসব পদক্ষেপ আন্দোলনকারীদের সন্তুষ্ট করতে পারেনি। তাদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় রাজনৈতিক দায় স্বীকার করে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে, এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন থাকায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। ফলে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে শনিবারের সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।