দেশের চিত্র ডেস্ক
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ষড়যন্ত্র চলছে এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক সদস্য এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার দাবি করছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত সর্বজনস্বীকৃত ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দুটি বিষয়ই বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল। ফলে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অবস্থান, যোগাযোগ কিংবা কর্মকাণ্ডকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা জরুরি।
অভিযোগের আলোচনায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে অতীতে সম্পৃক্ত থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ভূমিকার কথাও সামনে আনা হচ্ছে। তবে কোনো পুলিশ সদস্যের রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অতীত পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড, যোগাযোগ, অর্থের লেনদেন কিংবা পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন।
একইভাবে দেশের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষককে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা অভিযোগ ও দাবি ছড়াচ্ছে। কোনো শিক্ষক আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলেন বা শেখ হাসিনার প্রতি সহানুভূতিশীল এমন পরিচয়ের ভিত্তিতে তাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে জড়িত বলা সমীচীন নয়। বরং নির্দিষ্ট কোনো শিক্ষক কোনো সংগঠিত কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন কি না, সেটি প্রমাণের বিষয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের একটি বড় অংশ যাচাই না করেই প্রচার করা হয়। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর সময়ে পুরোনো ছবি, ভিডিও বা ব্যক্তিগত বক্তব্য নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর ঘটনাও দেখা যায়। ফলে কোনো অভিযোগ সামনে এলে তার উৎস, সময়, প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে রাজনৈতিকভাবে কেউ দাবি বা প্রচারণা চালিয়ে থাকলে সেটি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হতে পারে। কিন্তু সেটিকে ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বাস্তব পদক্ষেপের প্রমাণ প্রয়োজন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ উঠলে তা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে প্রমাণ ছাড়া কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে উপস্থাপন করলে তা সামাজিক বিভাজন ও রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে দেশের রাজনীতি ইতোমধ্যেই উত্তপ্ত। এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য তথ্য, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি উপস্থাপন করাই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মূল চ্যালেঞ্জ।