আওয়ামী সরকারের কারণেই পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশ,মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আপডেট টাইম :
শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কারণেই বাংলাদেশের জনগণ ভারতের কাছ থেকে পানির ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার দাবি, পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়া ফারাক্কা বাঁধ এখন দেশের জন্য “মরণফাঁদে” পরিণত হয়েছে।
১৬ মে ‘ফারাক্কা দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফারাক্কা দিবস জাতীয় আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। আজ থেকে ৪৯ বছর আগে মজলুম জননেতা মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর আহ্বানে সারা দেশ থেকে লাখো মানুষ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে ফারাক্কার উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক লংমার্চে অংশ নেয়।
তিনি বলেন, ভারতের ফারাক্কা পয়েন্টে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে অভিন্ন নদীর পানি একতরফাভাবে প্রত্যাহার শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ধীরে ধীরে মরুকরণের ঝুঁকিতে পড়েছে।
বিএনপি মহাসচিবের ভাষ্য, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ভারতকে পরীক্ষামূলকভাবে ফারাক্কা বাঁধ চালুর অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে সেই বাঁধ স্থায়ীভাবে চালু থাকায় তা এখন দেশের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাণীতে তিনি আরও বলেন, মাওলানা ভাসানী দূরদর্শিতার সঙ্গে সম্ভাব্য মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা উপলব্ধি করেছিলেন। সে কারণেই তিনি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ফারাক্কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরেন।
মির্জা ফখরুল দাবি করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশন উপেক্ষা করে ভারত বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং একতরফাভাবে পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উষরতা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের লক্ষণ ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান। তাই পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের আন্দোলনে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মাওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ আজও জনগণকে অধিকার আদায়ে অনুপ্রাণিত করে।
ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচির সফলতা কামনাও করেন বিএনপি মহাসচিব।