দেশের চিত্র প্রতিবেদন
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেছেন, দীর্ঘ চাকরি জীবনে নানা বঞ্চনা, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি জাতীয়তাবাদী আদর্শ থেকে কখনো বিচ্যুত হননি।
সোমবার (১১ মে) পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবেগঘন বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, প্রায় ২৯ বছরের চাকরি জীবনে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসার সুযোগ পেয়েছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বঞ্চনার পর এ মুহূর্ত তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।
তিনি দাবি করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে চাকরির শুরুতেই বৈষম্যের শিকার হন। ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৭ মাসের মাথায় তার ব্যাচের মধ্যে একমাত্র তাকেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার হস্তক্ষেপে তিনি পুনরায় চাকরিতে ফেরার সুযোগ পান।
বক্তব্যে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে রেজাউল করিম বলেন, সপ্তম শ্রেণিতে পড়াকালে মাদারীপুরের শিবচরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ধানের শীষের মালা পরিয়ে বরণ করার সুযোগ হয়েছিল তার। সেই স্মৃতিকে তিনি জীবনের অন্যতম সৌভাগ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে কয়েকবার জিয়াউর রহমানের সান্নিধ্যে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সর্বশেষ ১৯৮১ সালের ২৫ জানুয়ারি আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জুনিয়র ক্যাডেট কোর ক্যাম্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা হয়। সেদিনের অনুভূতিকে “বিশ্বজয়ের আনন্দ” বলেও বর্ণনা করেন তিনি।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বক্তব্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কঠিন সময়ে খালেদা জিয়ার একটি আশ্বাস তাকে নতুনভাবে বাঁচার শক্তি জুগিয়েছে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন গতি এসেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্রসচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।