1. desherchitrabd@gmail.com : Desher DesherChitra : Desher Chitra
বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
জঙ্গিবাদ: রাষ্ট্র, সমাজ ও মানবতার জন্য এক অভিন্ন হুমকি এখনো সক্রিয় ২০ জঙ্গি সংগঠন, জামিন নিয়ে পলাতক অনেক সদস্য মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদের বিস্তার: গোয়েন্দা জালে ‘ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেম’ ক্ল্যাকটনের এমপি পদ ছাড়লেন নাইজেল ফারাজ, উপনির্বাচনের ঘোষণা গাইবান্ধায় ছাত্রশিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে লন্ডনে মানববন্ধন আলী হাসান উসামার জঙ্গি তৎপরতা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ঘিরে নতুন বিতর্ক: পুরোনো অভিযোগ, নতুন প্রশ্ন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ বহিষ্কার নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রকাশ্য তৎপরতা: আইন প্রয়োগে প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ছাতক ইসলামিক সোসাইটি ইউকে’র এক্সিকিউটিভ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত ডিমের সঙ্গে যেসব খাবার একসঙ্গে খাওয়া উচিত নয়, জানুন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

নিষিদ্ধ হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রকাশ্য তৎপরতা: আইন প্রয়োগে প্রশ্ন, রাষ্ট্রের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬

দেশের চিত্র প্রতিবেদন

বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ দমনে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযান আন্তর্জাতিকভাবেও প্রশংসিত হয়েছে। একের পর এক অভিযানে বহু জঙ্গি আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা নস্যাৎ করা হয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত হিযবুত তাহ্‌রীরের প্রকাশ্য তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের মিছিল, লিফলেট বিতরণ, অনলাইন প্রচারণা এবং কালো পতাকা বহন করে কর্মসূচির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে একটি প্রশ্ন জোরালো হয়েছে নিষিদ্ধ সংগঠন যদি প্রকাশ্যেই সংগঠিত হতে পারে, তাহলে আইন প্রয়োগে কোথায় ঘাটতি রয়ে যাচ্ছে?

হিযবুত তাহ্‌রীর ২০০৯ সালে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে সংগঠনটির প্রকাশ্য কার্যক্রম পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয়। তবুও বিভিন্ন সময়ে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আকস্মিক মিছিল, লিফলেট বিতরণ এবং প্রচারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে কালো পতাকা হাতে মিছিলের দৃশ্য জনমনে আরও বেশি উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়েছে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় এ ধরনের কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই কেন তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হলো না?

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ের উগ্রপন্থী সংগঠনগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে নিজেদের মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয় এবং নতুন সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। ফলে তাদের কার্যক্রম শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আগের তুলনায় জটিল হয়ে উঠেছে। তবে এই বাস্তবতা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব কমিয়ে দেয় না; বরং গোয়েন্দা সক্ষমতা, সাইবার নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযানের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দেয়।

এ বিষয়টি উল্লেখ করাও জরুরি যে, বাংলাদেশ সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একাধিকবার প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে—নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রম সহ্য করা হবে না। বিভিন্ন সময়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হিযবুত তাহ্‌রীরের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা জানিয়েছেন এবং প্রকাশ্য কর্মসূচি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বাস্তবেও বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও মামলার তথ্য সামনে এসেছে। কিন্তু একই সঙ্গে যখন প্রকাশ্যে মিছিল বা প্রচারণার ঘটনা ঘটে, তখন জনগণের কাছে সেই ঘোষণার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়।

তবে একটি দায়িত্বশীল আলোচনায় এটিও স্বীকার করতে হবে যে, কোনো ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা, গোয়েন্দা তথ্যের ঘাটতি, আকস্মিক সমাবেশ, প্রযুক্তিনির্ভর সংগঠনের কৌশল কিংবা অন্য কোনো কারণ যে কারণই থাকুক না কেন, তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াই প্রয়োজন। প্রমাণ ছাড়া কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক পক্ষকে দায়ী করা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রকাশ্য উপস্থিতিকে সাধারণ ঘটনা হিসেবে দেখাও উচিত নয়।

জঙ্গিবাদ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার রোধে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান যথেষ্ট নয়। শিক্ষা, সামাজিক সচেতনতা, ধর্মীয় সম্প্রীতি, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চরমপন্থী প্রচারণা প্রতিরোধ এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মতো দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গি সংগঠনের প্রচারণাকে অযথা প্রচার না দিয়ে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং জনগণকে সচেতন করার দায়িত্ব সংবাদমাধ্যমকে পালন করতে হবে। কারণ উগ্রবাদী সংগঠনগুলো অনেক সময় প্রচারণাকেই নিজেদের শক্তি হিসেবে ব্যবহার করে।

রাষ্ট্রের কাছে নাগরিকের প্রত্যাশা একটাই—আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর হবে। কোনো সংগঠন যদি আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়, তাহলে সেই নিষেধাজ্ঞা কেবল সরকারি গেজেটের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তবেও তার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রকাশ্যে মিছিল, কালো পতাকা নিয়ে কর্মসূচি, লিফলেট বিতরণ কিংবা অনলাইন প্রচারণা যে কোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দ্রুত ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থা নেওয়াই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি।

বাংলাদেশ অতীতে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই করেছে এবং উল্লেখযোগ্য সাফল্যও অর্জন করেছে। সেই অর্জন ধরে রাখতে হলে নিষিদ্ধ সংগঠনের যে কোনো পুনরুত্থানের লক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ যাই থাকুক, জঙ্গিবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্র, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। কারণ জঙ্গিবাদ কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সমস্যা নয়; এটি পুরো জাতির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুতর জাতীয় চ্যালেঞ্জ।

Share this Post in Your Social Media

এই ধরনের আরও খবর
Copyright © 2025-2026, সাপ্তাহিক দেশের চিত্র. All rights reserved.
Theme Customized By BreakingNews