অনলাইন ডেস্ক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে দায়ের করা আরও একটি মামলায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোয়ালন্দে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলাটিতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
নিয়মিত হাজিরা দিতে বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থিত হলে গোয়ালন্দ আমলি আদালতের বিচারক তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের করা গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) গোয়ালন্দ ঘাট থানার পরিদর্শক হুমায়ুন রেজা এ বিষয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন।
এ ধরনের আদেশকে আইনি পরিভাষায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ বা ‘গ্রেপ্তার দেখানো’ বলা হয়। কোনো ব্যক্তি আগে থেকেই কারাগারে থাকলে তাঁকে নতুন কোনো মামলায় গ্রেপ্তার হিসেবে দেখানোর জন্য পুলিশ আদালতে আবেদন করতে পারে। আদালত আবেদন মঞ্জুর করলে ওই মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম চলতে পারে।
কাজী কেরামত আলীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩৩২/২৪ নম্বর মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে প্রথমে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে ওই মামলায় জামিন পান।
এরপর ৩৩৪/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলাতেও তিনি জামিন পান। পরবর্তী সময়ে ৩৬৫/২৪ নম্বর মামলায় তাঁকে আবারও গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বৃহস্পতিবার ওই মামলায় তাঁর নিয়মিত হাজিরার দিন নির্ধারিত ছিল।
আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার নতুন আরেকটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির হলে বিচারক সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কাজী কেরামত আলীকে ২০২৫ সালের ৬ এপ্রিল গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
এক মামলায় জামিন পাওয়ার পরও অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তি বিলম্বিত হতে পারে। তবে কোনো মামলায় জামিন পাওয়া এবং সব মামলা থেকে মুক্তি পাওয়া এক বিষয় নয়। প্রতিটি মামলার আইনি অবস্থা ও আদালতের আদেশের ওপর মুক্তির বিষয়টি নির্ভর করে।
সর্বশেষ মামলাটির অভিযোগ হলো, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট গোয়ালন্দে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে মামলাটি করা হয়। আদালত কাজী কেরামত আলীকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন।
তবে অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হওয়া প্রয়োজন। গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশকে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক